× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে নৃশংস হত্যা

পুলিশের 'ইয়াবা সেবন' তত্ত্ব নিয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীদের তীব্র সন্দেহ

ন্যশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক:

২৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩০ এএম । আপডেটঃ ২৪ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৯ এএম

রংপুরের কামালকাছনা এলাকায় নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের শিকার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর স্মৃতিময় পারিবারিক ছবি। ছবি: সংগৃহীত

রংপুর নগরের কামালকাছনা এলাকায় একই পরিবারের চার সদস্যকে শ্বাসরোধে ও পরিকল্পিতভাবে হত্যার ঘটনায় পুলিশ মাদকসেবীদের দায়ী করলেও তদন্তের এ দাবি নিয়ে জোরালো সন্দেহ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। গত শনিবার রাতে নির্মাণাধীন ভবন থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তীর (১৩) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় গতকাল ভোরে স্থানীয় দুই তরুণ সিদ্ধার্থ দাস (১৯) ও মুগ্ধ দাসকে আটক করে পরে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলেও পুলিশি ব্যাখ্যার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনেরা। রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ গতকাল দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, বৃহস্পতিবার রাতে তিনতলার ছাদে আসামিরা ইয়াবা সেবন করার সময় গণপতি চক্রবর্তী বাধা দিলে তাঁকে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে পরিচয় গোপন রাখতে এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা টের পাওয়ায় একে একে স্ত্রী, মেয়ে ও ঘরে ঘুমিয়ে থাকা ছোট ছেলেকেও হত্যা করে তারা। তবে স্বজনদের দাবি, শারীরিক গঠন ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিচারে মাত্র দুজন তরুণের পক্ষে একটি পরিবারের চারজনকে একাকী হত্যা করা মোটেও বিশ্বাসযোগ্য নয়। নিহত গণপতির স্বজনেরা জানান, ঘটনার পর থেকে পুলিশের অসংলগ্ন তথ্য তাদের বিভ্রান্ত করছে। গণপতির শ্যালিকা পূজা চক্রবর্তী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কিছুই বুঝতে পারছি না, পুলিশ যে কী করছে! পুলিশ বলছে ইয়াবাখোর দুজন নাকি এক এক করে চারজনকে মারছে। বাড়িতেও কি মানুষের নিরাপত্তা নেই?” এদিকে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তীর জামাতা বিশ্বজিৎ রায়ও একই সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, “পুলিশ যা বলছে, তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। দুইটা কম বয়সী ছেলে চারটা মানুষকে মেরে ফেলতে পারে না। আর ওই দুই ছেলের শরীরের যে অবস্থা, তাতে তারা চারজনকে মারার ক্ষমতা রাখে না।” গ্রেপ্তার হওয়া তরুণদের পরিবারও এ ঘটনায় তাঁদের সন্তানদের শতভাগ দায় মেনে নিতে নারাজ।হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর আসামিরা ওই বাড়িতেই অবস্থান করে গোসল করা, ফ্রিজ থেকে খাবার খাওয়া এবং পুনরায় ইয়াবা সেবনের পর শুক্রবার জুমার নামাজের সময় স্থান ত্যাগ করে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে ঘটনার চার দিন পরও প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত না হওয়ায় চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে পুরো রংপুরে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে জিলা স্কুলের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে এবং রংপুর মহানগর জামায়াত প্রেসক্লাবে সমাবেশ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ধস নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বর্তমানে কোতোয়ালি থানায় গোপীনাথ চক্রবর্তীর দায়ের করা অজ্ঞাতনামা আসামি সম্বলিত মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুই তরুণকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শিক্ষক পরিবারটির এই মর্মান্তিক পরিণতি এবং হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন না হওয়া পর্যন্ত পুরো নগরীতে থমথমে পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাহীনতার আতঙ্ক বিরাজ করছে।  

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.