তীব্র লোডশেডিংয়ে মোমবাতির অল্প আলোয় চলছে এক খুদে শিক্ষার্থীর পড়াশোনা, পাশে বসে দেখিয়ে দিচ্ছেন মা। ফাইল ছবি
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ব্যাহত হওয়া, কয়লা সংকট এবং বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া বিল পরিশোধ না হওয়ায় দেশজুড়ে অভূতপূর্ব লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। ঢাকা ও আশেপাশের বিভাগগুলোতে চরম বিদ্যুৎ বিভ্রাটের পাশাপাশি গ্রামের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং চলায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ও শিল্প উৎপাদন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গ্রামাঞ্চলে মাত্রাতিরিক্ত লোডশেডিংয়ে চরম ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালালে, দেশের বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, গ্রিড ও কার্যালয়গুলোর সার্বিক নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে জরুরী চিঠি পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন।
বিদ্যুৎ বিভাগ ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ১৮ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটের বেশি চাহিদার বিপরীতে তীব্র জ্বালানি ঘাটতির কারণে দৈনিক উৎপাদনে আড়াই থেকে সাড়ে তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি থাকছে। ঢাকা জোনেই দৈনিক শত শত মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে, আর দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে উৎপাদন কার্যত থমকে গেছে। উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সারা দেশের শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করা এবং সব ধরনের আলোকসজ্জা ও বিলবোর্ড বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
বিদ্যুৎ অফিসে অব্যাহত হামলা ও গ্রাহক অসন্তোষ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান প্রেরিত স্মারকে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রামগঞ্জে ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট সরবরাহ মিলছে, যার ফলে জনরোষ অনিয়ন্ত্রিত রূপ নিচ্ছে। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ ও পার্বতীপুরসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনা তুলে ধরে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম বলেন, "আমরা বিদ্যুৎ অফিসে কর্মরতদের বলেছি যাতে তারা গ্রাহকদের বোঝান। লোড ম্যানেজমেন্ট যেন সুষমভাবে বণ্টন করা হয় এবং কর্মীদের নিরাপত্তায় প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
সংকট উত্তরণে পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রতিদিন ২৫২৪ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে মাত্র ৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট। পরিস্থিতি মূল্যায়নে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিদ্যুৎ সংকটে জনগণের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। প্রতিমন্ত্রী সচিবালয়ে বলেন, "কৌশলগত পদক্ষেপে লোডশেডিং কিছুটা কমানোর চেষ্টা করা হলেও এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি রাতারাতি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। ফলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া কঠিন।"
বর্তমানে জরুরি সেবাসমূহ ছাড়া রাত ৮টার পর মেলা, বাণিজ্যিক প্রদর্শনীর দোকান বন্ধ রাখার নীতি কার্যকর করতে সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধ এবং আমদানি গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিকট ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির টেকসই উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা কম।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
