× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

হাসিনা কার্ড আর বন্ধুত্ব একই সাথে চলে না: ভারতের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ন্যশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক:

০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৮ এএম । আপডেটঃ ০৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:২৯ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএনপি সমর্থক শিক্ষক সংগঠনের আলোচনা সভায় ভারতের নীতি ও অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, নয়া দিল্লি একদিকে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম সুবিধা দেবে এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলবে—এই দুই বিপরীতমুখী অবস্থান একই সাথে চলতে পারে না। শনিবার (৯ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি জানান, ভারত যদি ‘হাসিনা কার্ড’ খেলা অব্যাহত রাখে, তবে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে প্রকৃত বন্ধুত্ব তৈরি হওয়া সম্ভব নয়। কারণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক হতে হবে কেবলই পারস্পরিক মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ১,৪০০-এর বেশি মানুষকে হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে চিহ্নিত একজন দণ্ডিত ও মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী অপরাধীকে ভারত কোনোভাবেই রাজনৈতিক আশ্রয় ও প্রশ্রয় দিতে পারে না। শেখ হাসিনা ভারতের মাটিতে বসে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে দেশের স্বার্থকে সর্বাগ্রে রেখে প্রতিবেশীদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ বজায় রাখা হবে, কিন্তু বাংলাদেশ আর কখনো কোনো দেশের অনুগত বা ‘আওয়ামী লীগ’ হবে না।

অনুষ্ঠানে একই প্রসঙ্গে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। সম্প্রতি নয়া দিল্লিতে একটি আন্তর্জাতিক সাংবাদিক ফোরামের ব্যানারে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সংবাদ সম্মেলন ও শেখ হাসিনার বক্তব্যের সুযোগ পাওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি আরও বলেন, ভারত সরকারের অনুমতি ছাড়া দিল্লিতে এমন রাজনৈতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা অসম্ভব। অতীতে বিরোধী দলের আইনজীবীদের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও এখন পলাতক ফ্যাসিস্টকে দিল্লির মাটিতে মুক্ত বক্তব্য দিতে দেওয়া ভারতের দ্বিমুখী নীতির প্রকাশ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ মেয়াদ ১০ বছর নির্দিষ্ট করা, সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং সংসদে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট ব্যবস্থা (আপার হাউস ও লোয়ার হাউস) প্রবর্তনের মাধ্যমে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা হবে। গণঅভ্যুত্থানের পর কোনো রক্তচক্ষু বা কৃত্রিম প্রক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ অস্বাভাবিক দীর্ঘ করার সুযোগ নেই। তিনি জানান, জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র প্রতিফলক হলো একটি অবাধ নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক হস্তান্তর।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খানের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ মহিউদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় দেশের ২৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষক প্রতিনিধি অংশ নেন। সভা শেষে নেতৃবৃন্দ একযোগে হুশিয়ারি দেন যে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শিক্ষা নিয়ে দেশের ছাত্র-জনতা ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের অপরাজনীতি ও ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াবে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.