ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বাহাদুরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও হুমকির প্রতিবাদে স্থানীয়দের ৫ ঘণ্টার অবরোধ। ছবি: সংগৃহীত
মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার প্রতিবাদ জানানোয় হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক টানা পাঁচ ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে মহাসড়কের আশুগঞ্জ টোল প্লাজা থেকে চান্দুরা পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে দেখা দেয় তীব্র যানজট, যার ফলে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী ও স্থানীয় মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার আশুগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরপুর, দুর্গাপুর ও তাজপুর গ্রামের বাসিন্দারা মেঘনা নদী থেকে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন। সে সময় আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জামাল হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কাজী রবিউস সারোয়ার এবং আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের আশ্বাস দিয়েছিলেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের সেই আশ্বাসের পর বালু উত্তোলন বন্ধ হওয়া তো দূরের কথা, উল্টো বালুখেকো চক্রের লোকজন প্রতিবাদকারীদের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের হুমকি দিতে শুরু করে। চিহ্নিত হুমকিদাতাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতেই শনিবার সকালে বাধ্য হয়ে রাজপথে নামেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
অবরোধের কারণে মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকা যানবাহনগুলোতে নারী, শিশু ও অসুস্থ রোগীদের কষ্টের সীমা ছিল না। পরিবার নিয়ে কসবা থেকে ঢাকাগামী কাজী পরিবহনের যাত্রী মো. দেলোয়ার হোসাইন দুর্ভোগের বিবরণ দিয়ে বলেন, “বিশ্বরোড পার হয়ে সোহাগপুর ব্রিজের কাছে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আটকে আছি। সাধারণ মানুষ, শিশু ও রোগীদের চরম কষ্ট হচ্ছে।”
জরুরি কাজে রাজধানী অভিমুখে রওয়ানা হয়েও বিপাকে পড়েন অনেকে। সিলেট থেকে ছেড়ে আসা এনা পরিবহনের যাত্রী কাউছার আহমেদ বলেন, “ঢাকায় আমার বিকেল ৩টায় একটি জরুরি বৈঠক ছিল। কিন্তু দুপুর ১টার সময়ও আশুগঞ্জেই আটকে আছি। কতক্ষণে পৌঁছাতে পারব তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।”
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের সাথে দফায় দফায় আলোচনা শুরু করে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ওবায়দুর রহমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, “আমরা দ্রুততম সময়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং সড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ তৎপর রয়েছে।”
অন্যদিকে আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম সফিকুল আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, “যারা মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধের ডাক দিয়েছেন, তাদের মূল উদ্যোক্তারা সামনে আসছেন না। তবে সামনের সারিতে থাকা প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে সড়ক থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।”
বেলা ৩টার দিকে পুলিশের আশ্বাস এবং স্থানীয় প্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে বিক্ষোভকারীরা রাজপথ ছেড়ে দিলে মহাসড়কে পুনরায় যান চলাচল শুরু হয়। তবে দীর্ঘ সময় যানবাহন দাঁড়িয়ে থাকার কারণে বিকেল গড়িয়ে গেলেও যানজটের রেশ রয়ে যায় এবং ধীর গতিতে গাড়ি চলাচল করতে দেখা যায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
রিলায়েন্ট মিডিয়া
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
