× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ডাক অধিদপ্তরের সব কার্যালয় ও পোস্ট অফিস তামাকমুক্ত ঘোষণা

ন্যশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক:

৩০ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৭ এএম । আপডেটঃ ৩০ জুলাই ২০২৬, ০২:৩৫ এএম

বুধবার ডাক অধিদপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অধিদপ্তরের সকল কার্যালয় ও পোস্ট অফিসকে ধূমপান ও তামাকমুক্ত এলাকা হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরোক্ষ ধূমপানের মরণঘাতী প্রভাব থেকে অধূমপায়ীদের রক্ষা করতে দেশের ডাক অধিদপ্তরের আওতাধীন সকল কার্যালয় ও পোস্ট অফিসকে সম্পূর্ণ ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) ডাক অধিদপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে এই ঐতিহাসিক ঘোষণা দেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম। এর মাধ্যমে সারা দেশের প্রায় ১০ হাজার ডাকঘরে তামাকের ব্যবহার ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ হলো।

‘টেকসই তামাক নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগ’ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমি। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ (সংশোধন ২০২৬)’ অনুযায়ী পাবলিক প্লেস ও জনব্যবহার্য স্থানে তামাক সেবন শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইনটির যথাযথ বাস্তবায়ন এবং সেবাপ্রার্থীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে তামাকের ভয়াব্যতা তুলে ধরে জানানো হয়, গ্লোবাল এডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (গ্যাটস) অনুযায়ী দেশে প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। তামাক ব্যবহারজনিত রোগে প্রতিবছর বাংলাদেশে প্রায় দুই লাখ মানুষ প্রাণ হারান এবং পঙ্গুত্ব বরণ করেন আরও কয়েক লক্ষ মানুষ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘তামাক ও নিকোটিনমুক্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ার অঙ্গীকার’-এর সঙ্গে সংগতি রেখেই সরকারি এই সেবা প্রতিষ্ঠানে এই কঠোর বিধিমালা কার্যকর করা হলো।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব মিজ বিলকিস জাহান রিমি বলেন, "তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব কেবল ব্যক্তির স্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি পরিবার, কর্মক্ষেত্র, পরিবেশ এবং সামগ্রিক জাতীয় উন্নয়নের ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বর্তমান সরকার জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং আমি আশা করি ডাক অধিদপ্তরের এই সাহসী উদ্যোগ দেশের অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি অনন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।"

এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিদিন সেবা নিতে আসা লাখো সাধারণ নাগরিক এবং কার্যালয়গুলোতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শতভাগ ধূমপানমুক্ত ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের সুফল পাবেন বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, "ডাক অধিদপ্তরকে তামাকমুক্ত ঘোষণা করা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি একটি সুস্থ, নিরাপদ ও জনবান্ধব কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার প্রতি আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রকাশ। এর মাধ্যমে সারা দেশের প্রায় ১০ হাজার ডাকঘরের কর্মীরা যেমন পেশাগত সুরক্ষা পাবেন, তেমনি সেবাগ্রহীতারাও পরোক্ষ ধূমপানের অভিশাপ থেকে রক্ষা পাবেন।"

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আক্তার ডলি, তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরামের আহ্বায়ক ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব শিবানী ভট্টাচার্য, তামাকবিরোধী ইয়ুথ ফোরামের প্রতিনিধি এবং ডাক অধিদপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। বক্তারা এক বাক্যে এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং তামাকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, মাঠপর্যায়ে এই নির্দেশনার কঠোর বাস্তবায়ন দেশের জনস্বাস্থ্য খাতে সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.