× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ব্রিকস সম্মেলনে মোদির আমন্ত্রণ, দিল্লির সফর নিয়ে হিসাব-নিকাশ ঢাকায়

ন্যশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক:

২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০১ পিএম । আপডেটঃ ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০২ পিএম

বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় উদীয়মান অর্থনীতির জোট ‘ব্রিকস’-এর ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনের ‘আউটরিচ’ পর্বে অংশ নেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে গত ১৪ জুলাই কূটনৈতিক পত্রের মাধ্যমে ঢাকা পৌঁছানো এই আমন্ত্রণের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। সদ্য বিদেশ সফর শেষে ফেরা পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করে চলতি সপ্তাহে এ বিষয়ে চূড়ান্ত নীতিগত অবস্থান জানাতে পারেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষরিত চিঠিটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হয়ে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর আয়োজিত এই বিশ্ব সম্মেলনে বিমসটেক প্রতিনিধি হিসেবে তারেক রহমানের উপস্থিতি ব্রিকস ও আঞ্চলিক জোটগুলোর সমন্বয়ে বড় ভূমিকা রাখবে বলে চিঠিতে আশা প্রকাশ করেছেন নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে সম্মেলনের ফাঁকে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে প্রথম দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আগ্রহও প্রকাশ করেছে দিল্লি।

তবে আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর সম্পর্কের প্রেক্ষাপট ও জনমতের সমীকরণ বিবেচনা করে বিষয়টি বেশ সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে ঢাকা। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, "বাংলাদেশ ব্রিকসের মূল সদস্য নয়, পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফলে সরকারি পর্যায়ে নীতিগত আলোচনার পরেই সিদ্ধান্ত আসবে প্রধানমন্ত্রী সফরে যাবেন কি না। সম্মেলনে অংশ নিলে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বড় সুযোগ তৈরি হয়, তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।"

বাংলাদেশ বেশ কয়েক বছর ধরেই ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা সহ ১১ দেশের এই জোটের পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদের লড়াইয়ে রয়েছে, যেখানে চীন ও রাশিয়ার সমর্থনও মেলে। সাবেক নির্বাচন পরবর্তী বাস্তবতায় ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে যে কিছুটা স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তার নিরসনে এই সম্মেলনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা। সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন মনে করেন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং সদস্যপদ প্রাপ্তির দীর্ঘমেয়াদি সুবিধার স্বার্থেই প্রধানমন্ত্রীর এই সম্মেলনে যোগ দেওয়া যৌক্তিক।

একই সুর ফুটে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও গবেষক এম হুমায়ুন কবীরের বিশ্লেষণেও। তিনি বলেন, "নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক যে প্রত্যাশিত গতি পাওয়ার কথা ছিল, বাস্তবে তা দেখা যায়নি। সীমান্তে পুশ-ইন ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাবলীতে দুই দেশের মধ্যে যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, ব্রিকস সম্মেলন নরেন্দ্র মোদি ও তারেক রহমানের মধ্যে প্রথম মুখোমুখি বৈঠকের এক অনন্য কূটনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে।"

বিশ্বের বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা, মার্কিন সম্পর্কের গতিধারা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া মিলিয়েই সরকার সিদ্ধান্ত নিবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদি প্রধানমন্ত্রী এ সম্মেলনে যোগ দেন, তবে ভারত ছাড়াও চীন ও রাশিয়ার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠকের বড় সুযোগ তৈরি হবে বাংলাদেশের সামনে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.