× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

পদ ছাড়লে সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা সম্ভব: তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ

ন্যশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক:

২৮ জুলাই ২০২৬, ২১:৫৫ পিএম । আপডেটঃ ২৯ জুলাই ২০২৬, ০০:০৭ এএম

মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে রাষ্ট্রপতির আইনি সুরক্ষার বিষয়ে সাংবিধানিক ব্যাখ্যা তুলে ধরে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ফৌজদারি বা আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া না গেলেও মেয়াদ শেষে বা পদত্যাগের পর যেকোনো অপকর্ম বা অপরাধের জন্য সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বা সরকারের যেকোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়িত্বে থাকা অবস্থাতেই মামলা করার সুযোগ থাকলেও সংবিধান রাষ্ট্রপতিকে স্বপদে বহাল থাকাকালীন সময়টুকুতে সুরক্ষা দিয়েছে, তবে পদমুক্ত হওয়ার পর সেই বাধ্যবাধকতা আর থাকে না।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের আইনি সুরক্ষা ও তাকে বিচারের আওতায় আনা নিয়ে চলা বিতর্কের জবাবে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। দেশে রাষ্ট্রপতি পদে দায়মুক্তি নিয়ে তৈরি হওয়া নানা আইনি অস্পষ্টতা ও রাজনৈতিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে এই ব্যাখ্যা প্রদান করেন তিনি।

তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, "দায়মুক্তির ব্যাপার নিয়ে সমাজে কিছুটা বিভ্রান্তি কাজ করছে। বাংলাদেশের সংবিধানে কেবল একজন ব্যক্তিই পদে থাকাকালীন সময়ে কোনো আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হবেন না—তিনি হলেন রাষ্ট্রপতি। তবে তিনি যখন আর পদে থাকবেন না, তখন পদত্যাগের আগে কিংবা পরে করা যেকোনো ধরনের অন্যায়ের জন্য নিশ্চয়ই তার বিরুদ্ধে লিগ্যাল অ্যাকশন নেওয়া যাবে।"

তিনি আরও বলেন, "দায়িত্বে থাকা অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী বা যেকোনো মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা করার সুযোগ আইনে রয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি যতদিন পদে আছেন, ততদিন তার বিরুদ্ধে কোনো লিগ্যাল প্রসিডিউর শুরু করা যায় না। ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পর তা আর প্রযোজ্য থাকে না। এই সাংবিধানিক ব্যাখ্যা জানার পর সবার বিভ্রান্তি কেটে যাওয়া উচিত।"

সম্প্রতি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তার পদত্যাগের পর জাতীয় নাগরিক পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও ইনকিলাব মঞ্চসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারে মুখোমুখি করার দাবি তোলে। তবে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে এ ধরনের দাবিকে আইনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন।

উপদেষ্টা বলেন, আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং সংক্ষুব্ধ যেকোনো নাগরিক আদালতের শরণাপন্ন হতে পারেন। তিনি উল্লেখ করেন, সরকার ও বিচার বিভাগ এক নয় এবং উচ্চ আদালতে জনগণের দায়ের করা অসংখ্য রিটে সরকারের পরাজয়ের ইতিহাস বিচার ব্যবস্থার স্বাধীনতাই প্রমাণ করে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধান অনুযায়ী পদে থাকাকালীন সময়টুকুতে আইনি সুরক্ষা পেলেও পদত্যাগের পর সাবেক রাষ্ট্রপতির বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো সাংবিধানিক বাধা থাকে না। তথ্য উপদেষ্টার এই স্পষ্টীকরণের পর সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে চলমান আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ হলো।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.