× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

রাষ্ট্রপতি থাকতেই ২৫১ কোটি টাকার জালিয়াতি মামলার আসামি সাহাবুদ্দিন

ন্যশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক:

২৬ জুলাই ২০২৬, ২২:৫১ পিএম । আপডেটঃ ২৬ জুলাই ২০২৬, ২২:৫৩ পিএম

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের সংবিধানের চরম ব্যত্যয় ঘটিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের রাষ্ট্রপতির কার্যভারকালে তাঁর বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রায় ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার কেলেঙ্কারি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগরের সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করা হলেও মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর তা সম্প্রতি জনসমক্ষে আসে। সংবিধান অনুযায়ী পদে থাকাকালে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের সুনির্দিষ্ট আইনি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও আদালতের নির্দেশে মামলাটি আমলে নিয়ে ইতোমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতের নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পক্ষে ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার মো. আবদুচ ছামাদ বাদী হয়ে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ মোট ২০ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, প্রতারণা ও অবৈধ বলপ্রয়োগের অভিযোগে এই মামলা (অভিযোগ নম্বর) দায়ের করেন। মামলার ১২ নম্বর আসামি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যেখানে তাঁকে 'জে এম সি বিল্ডার্স লিমিটেড' কর্তৃক মনোনীত ইসলামী ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ২০১৭ সালে তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করলেও ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বিধি অনুযায়ী ব্যাংক থেকে পদত্যাগ করেছিলেন।

এজাহারে দেখা যায়, আসামিদের বিরুদ্ধে পারস্পরিক যোগসাজশে নামমাত্র পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানি 'ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড'-এর মাধ্যমে অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন জানান, বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি আমলে নেন। তবে গত ২৩ জুন দুদক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আলমগীর আগামী ১১ আগস্ট প্রতিবেদন জমার পরবর্তী দিন ধার্য করেছেন।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম বলেন, "রাষ্ট্রপতি পদে থাকাকালে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো আদালতে ফৌজদারি মামলা করা যায় না—সংবিধানের ৫১ অনুচ্ছেদে এটি স্পষ্টভাবে সুরক্ষিত। হয়তো বাদীপক্ষ পরিচয় আড়াল কিংবা ভুল তথ্য দিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করে আদেশটি করিয়ে নিয়েছে। পুরো বিষয়টি এখন দুদকের পর্যালোচনাধীন রয়েছে।"

তবে নাম, বাবার নাম ও ঠিকানার কিছু তথ্যাগত অসামঞ্জস্য নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এজাহারে বাবার নাম 'সারাফ উদ্দিন আনসারি' এবং ঠিকানা চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ লেখা হলেও বিদায়ী রাষ্ট্রপতির প্রকৃত বাবার নাম শরফুদ্দিন আনছারী এবং স্থায়ী ঠিকানা পাবনা জেলায়। এ বিষয়ে বাদীর প্যানেল আইনজীবী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, "ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আমাদের যে তালিকা দিয়েছে, আমরা সে অনুযায়ীই প্যানেল আইনজীবী হিসেবে ফাইল করেছি। আসামি কে বা তাঁর পরিচয় কী, তা আমার জানা নেই।" তবে মামলার বাদী মো. আবদুচ ছামাদ সরাসরি নিশ্চিত করেছেন যে, এজাহারের ১২ নম্বর আসামি সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনই।

সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের বা তদন্তের নির্দেশ বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি নজিরবিহীন ভুল। বর্তমানে সাবেক রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করায় এবং মামলাটি দুদকের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকায় কমিশন আইনগত পর্যালোচনার মাধ্যমেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে। ১১ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের ধার্য তারিখে আদালত এই মামলার ভবিষ্যৎ ও সংবিধান লঙ্ঘনের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত দেন, সেদিকেই এখন নজর আইনজ্ঞদের।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.