× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

হাসপাতালের আইসিইউতে ভয়াবহ ব্যাকটেরিয়া, সংক্রমিত ৯০% রোগীর মৃত্যু

ন্যশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক:

২৬ জুলাই ২০২৬, ০০:৩২ এএম । আপডেটঃ ২৬ জুলাই ২০২৬, ০০:৩৪ এএম

নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন মুমূর্ষু রোগীদের সুরক্ষায় পরিচ্ছন্নতা ও কঠোর অ্যান্টিবায়োটিক নীতি বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছে আইসিডিডিআর,বি। ছবি: সংগৃহীত

দেশের হাসপাতালগুলোর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রোগীদের শরীরে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে ওষুধ-প্রতিরোধী মারাত্মক সব ব্যাকটেরিয়া। চিকিৎসাবিজ্ঞানের চূড়ান্ত বলয়ে এ ধরনের ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট’ ব্যাকটেরিয়ায় নতুন করে সংক্রমিত রোগীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুহার দাঁড়িয়েছে ৯০ শতাংশেরও বেশি। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণাকেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) সাম্প্রতিক দুটি পৃথক গবেষণায় হাসপাতালভিত্তিক এই গোপন ও প্রাণঘাতী সংক্রমণের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। 

শনিবার (২৫ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংস্থাটি এ গবেষণার ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করে।

আইসিডিডিআর,বি পরিচালিত প্রথম গবেষণাটি রাজধানীর একটি বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভর্তি ৩৭৩ জন আশঙ্কাজনক রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্পন্ন করা হয়। ফলাফল অনুযায়ী, ভর্তির সময় যেসব রোগীর শরীরে কোনো ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া ছিল না, আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তাঁদের ৫৩ শতাংশই নতুন করে এ ধরনের জীবাণুতে আক্রান্ত হয়েছেন। অপরদিকে, একই হাসপাতালের নবজাতকদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) ভর্তি ৩৬৩ শিশুর ওপর পরিচালিত দ্বিতীয় গবেষণাতেও সমরূপ আশঙ্কাজনক চিত্র মিলেছে।

আন্তর্জাতিক চিকিৎসাবিষয়ক খ্যাতনামা সাময়িকী ‘মাইক্রোবায়োলজি স্পেকট্রাম’ এবং ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড ইনফেকশন কন্ট্রোল’-এ প্রকাশিত গবেষণাগুলোতে বলা হয়, হাসপাতালে সংক্রমণ ছড়াতে মূলত চারটি ‘গ্রাম-নেগেটিভ’ ব্যাকটেরিয়া দায়ী। এগুলো হলো—ই-কোলাই, ক্লেবসিয়েলা নিউমোনি, অ্যাসিনেটোব্যাক্টার বাউমানি এবং সিউডোমোনাস অ্যারুজিনোসা। এসব জীবাণু অতি সহজেই প্রচলিত ও শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যকারিতা ধ্বংস করে ফেলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, আইসিইউতে ভর্তি প্রাপ্তবয়স্ক রোগীদের ৪৮.৫ শতাংশের অন্ত্রে এসব মারমুখী ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ছিল, যাকে চিকিৎসা পরিভাষায় 'কলোনাইজেশন' বলা হয়। গবেষণার তথ্যমতে, আইসিইউতে আসা ১৯৮ জন সুস্থ অন্ত্রের রোগীর মধ্যে ১০৫ জনই পরবর্তীতে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে থাকাকালে অন্যান্য সংক্রামক ব্যাকটেরিয়ার সংস্পর্শে এসে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। গবেষকেরা আধুনিক ‘হোল-জিনোম সিকোয়েন্সিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রমাণ করেছেন যে, হাসপাতালে থাকা এসব সুপ্ত জীবাণু অত্যন্ত দ্রুত রোগীদের শরীরে ছড়িয়ে প্রাণঘাতী রূপ নিচ্ছে।

আইসিইউর ভেতরের অপর্যাপ্ত সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, আধুনিক ও জীবাণুমুক্ত চিকিৎসা সরঞ্জামের চরম ঘাটতি এবং ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত রোগীর চাপকেই এ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

গবেষণা প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ও আইসিডিডিআর,বির সহকারী বিজ্ঞানী গাজী মো. সালাহউদ্দীন মামুন বলেন, "আইসিইউর রোগীদের ওপর নিয়মিত নজরদারি, ল্যাব পরীক্ষা ও জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের সাহায্যে আমরা স্পষ্ট দেখতে পেরেছি যে কীভাবে ওষুধ-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়াগুলো ছড়ায় এবং মানবদেহে থাকা নিষ্ক্রিয় জীবাণুগুলো পরবর্তীতে প্রাণঘাতী সংক্রমণে রূপ নেয়।"

সংকটের গভীরতা তুলে ধরে আইসিডিডিআর,বির অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) রিসার্চ ইউনিটের প্রধান ও প্রধান গবেষক ফাহমিদা চৌধুরী বলেন, "হাসপাতাল আরোগ্যের জায়গা হওয়া উচিত, নতুন কোনো ব্যাধি বা মৃত্যুর উৎস নয়। আইসিইউর মতো সংবেদনশীল স্থানে সংকটাপন্ন রোগীদের জীবন রক্ষায় কঠোর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা, দায়িত্বশীল অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার এবং সংক্রমণ প্রতিরোধব্যবস্থাকে অনতিবিলম্বে ঢেলে সাজানো জরুরি।"

চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে দ্রুত কঠোর নীতিমালা ও হাসপাতালের পরিবেশ পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না গেলে দেশের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রগুলো রোগীদের জন্য আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

রিলায়েন্ট মিডিয়া

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.