গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ফাইল ছবি: সংগৃহীত
শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে ইতিমধ্যে তাঁকে পদত্যাগের স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে এবং তিনি নিজেও বঙ্গভবনের অধস্তন কর্মীদের শিগগিরই কার্যালয় ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। জাতীয় রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তনের অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত এবং তাঁর সম্ভাব্য উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে এখন সরকার ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে।
সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশে নিজ স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। পদত্যাগপত্র গৃহীত হলে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার সাময়িকভাবে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
পরবর্তী সময়ে সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ মেনে শূন্য হওয়া পদে ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংসদে বর্তমানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিশ্চিত।
বঙ্গভবনকেন্দ্রিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে, পদত্যাগের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন এবং চিকিৎসার জন্য বিদেশে গমন করতে পারেন। এর আগে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের মনোনয়নে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। যার মেয়াদ ২০ ২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আবদুল মঈন খানের নাম ইতিপূর্বে আলোচনায় থাকলেও। বর্তমানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত এক জ্যেষ্ঠ সচিবের নাম শীর্ষ বিবেচনায় উঠে এসেছে।
তবে এ বিষয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, "এ বিষয়ে আমি একেবারেই অবগত নই। আর এমন কিছু ঘটলে অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে অনেক নামই আলোচনায় আসবে। এটাই স্বাভাবিক।"
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা বিএনপির জন্য এই পদটি অত্যন্ত কৌশলগত। নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদেই পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা থাকায়, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং সব দলের কাছে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্বকেই প্রাধান্য দিচ্ছে নীতিনির্ধারকেরা।
ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারকদের মতে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হতে যাওয়া সম্ভাব্য রাজনৈতিক চাপ সামলাতে অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ নেতৃত্ব জরুরি। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের সাংবিধানিক কাঠামোতে চূড়ান্ত রাজনৈতিক রূপান্তরের এক নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
