মতিঝিলে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতারকৃত কুখ্যাত শ্যুটার তানিম রেজা বাপ্পি ও তার সহযোগী। ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মতিঝিল এলাকায় কোরবানির পশুর হাটের ইজারাদারের অফিসে গুলিবর্ষণ ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও শ্যুটার তানিম রেজা ওরফে বাপ্পিসহ (৪৬) তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক অভিযানে মতিঝিল ও উত্তর কমলাপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানকালে তাদের কাছ থেকে তিনটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, সাত রাউন্ড গুলি এবং বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সন্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এস্টেট, ডেভেলপমেন্ট ও আইসিটি) এবং অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ওসমান গণি ও মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুনুর উর রশিদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, গত ১৫ মে দক্ষিণ কমলাপুরের কোরবানির পশুর হাটের এক ইজারাদার ব্যবসায়ীর কাছে হোয়াটসঅ্যাপে বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এর চারদিন পর, ১৯ মে ওই ব্যবসায়ীর অফিস লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা। এই ঘটনায় মতিঝিল থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্তে নেমে শ্যুটার বাপ্পি ও তার চক্রের সন্ধান পায় পুলিশ।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৭ জুলাই সকাল ৭টায় মতিঝিল জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হুসাইন মুহাম্মাদ ফারাবী ও মতিঝিল থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) মোঃ সালাহ উদ্দিন কাদেরের নেতৃত্বে একটি দল হোটেল পূর্বাণী সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে মূল হোতা বাপ্পি এবং তার তিন সহযোগী—মোহাম্মদ জুয়েল (৪৮), শাকিল (২৭) ও মো. মানিক কাজী (৫০)-কে গ্রেফতার করা হয়।
পরে তাদের দেওয়া তথ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় উত্তর কমলাপুর থেকে বাপ্পির অন্যতম প্রধান সহযোগী রাকিবুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে রিজনকে (৩৫) গ্রেফতার করা হয়।
ডিএমপি মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুনুর উর রশিদ জানান, "তানিম রেজা বাপ্পি একজন চিহ্নিত অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী। সে দীর্ঘদিন ধরে মতিঝিল ও আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি ও শ্যুটিংয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল। গ্রেফতার এড়াতে তারা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৌশলে আত্মগোপনে ছিল।"
মোহাম্মদ হারুনুর উর রশিদ জানান, গ্রেফতারের পর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে বাপ্পি ও রিজন তাদের কাছে থাকা অবৈধ অস্ত্রের কথা স্বীকার করে। তিনি জানান, তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, ১৭ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১১টায় দক্ষিণ কমলাপুরে বাপ্পির অফিসে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।
সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়:
পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, শ্যুটার বাপ্পি একজন পেশাদার অপরাধী। তার বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি, অপহরণ, দস্যুতা, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মাদকসহ অন্তত ৭টি মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে, বাপ্পির তিন সহযোগী জুয়েল, শাকিল ও মানিক কাজীকে সবুজবাগ থানার একটি অপহরণ ও হত্যাচেষ্টা মামলায় (মামলা নং-২৬, তারিখ: ১৭/০৭/২০২৬) গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় বাপ্পি ও রিজনের বিরুদ্ধে ১৮ জুলাই মতিঝিল থানায় অস্ত্র আইনে একটি নতুন মামলা (মামলা নং-১৬) দায়ের করা হয়েছে।
উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুনুর উর রশিদ জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে সোপর্দ করে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে। এই চক্রের সাথে জড়িত অন্যান্য সহযোগী এবং তাদের ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
