আফগানিস্তানে জাতিসংঘের সহায়তা মিশন (ইউএনএএমএ—ইউনামা)-এর নতুন প্রধান ও জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ পেশাদার কূটনীতিক রাবাব ফাতিমা। গত বুধবার (১৫ জুলাই) জাতিসংঘ সদর দফতরে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্রের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মিশনটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান কানাডার জর্জেট গ্যানিওনের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন তিনি।
দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনীতি, নীতিনির্ধারণ এবং কর্মসূচি বাস্তবায়নে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সিভিল সার্ভিসে ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজের সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে রাবাব ফাতিমার। ২০০২ সালে আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই বিশেষ সহায়তা মিশনের শীর্ষ পদে তাঁর অন্তর্ভুক্তি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের কূটনৈতিক দক্ষতার বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর আগে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাবাব ফাতিমা ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি (রাষ্ট্রদূত) হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময়ে তিনি ইউনিসেফ ও ইউএন উইমেনের নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ২০২২ সালে জাতিসংঘের পিসবিল্ডিং কমিশনের (শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিশন) প্রথম নারী চেয়ার এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনের সহ-সভাপতির গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক পদ অলঙ্কৃত করেন।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্রের দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, "জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সিভিল সার্ভিসে দায়িত্ব পালনের ৩০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে রাবাব ফাতিমার। এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতার মধ্যে নিহিত আছে তাঁর অনন্য দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনীতি, নীতিনির্ধারণ, অ্যাডভোকেসি এবং কর্মসূচি পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিশেষ দক্ষতা।"
বৈশ্বিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানের বর্তমান জটিল রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় জাতিসংঘের নতুন মিশন প্রধান হিসেবে রাবাব ফাতিমার এই নিয়োগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আফগান জনগণের মানবিক সংকটের টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে তাঁর সুদীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে জাতিসংঘ।