জাতীয় সংসদ অধিবেশন। ফাইল ছবি
তীব্র আপত্তি, সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো এবং জনমত যাচাইয়ের দাবির মুখে জাতীয় সংসদে মাত্র ২৮ মিনিটের মধ্যে পাস হয়েছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ ও দ্রুত শিল্পায়নের উদ্দেশ্যে আনা ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ বিল, ২০২৬’। আজ বুধবার (১৫ জুলাই) সংসদের বৈঠকে সরকারের পক্ষে বিলটি উত্থাপন ও পাসের প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে বিলটি উত্থাপন করা থেকে শুরু করে পাস হওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় কার্যপ্রণালি বিধির শর্ত স্থগিত করে অত্যন্ত তড়িঘড়ি করার তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।
নতুন এই আইনের আওতায় মূলত বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষ বিলুপ্ত করে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ নামে একটি নতুন একক সংস্থা গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্ববর্তী ৪টি সংশ্লিষ্ট আইন ও ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন রহিত করা হয়েছে। সরকার পক্ষের দাবি, এই একীভূতকরণের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে খুব দ্রুত সব ধরনের লাইসেন্স, অনুমোদন ও ছাড়পত্র পাবেন, যার গভর্নিং বোর্ডের সভাপতি হবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান বলেন, “৯ জুলাই মন্ত্রিসভায় বিলটি অনুমোদিত হলেও সংসদ সদস্যদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নথি দেওয়া হয়নি। এত অল্প সময়ের মধ্যে বিলটি পড়ে আগের আইনগুলোর সঙ্গে তুলনা করা, সংশোধনীর প্রস্তাব তৈরি কিংবা জনমত যাচাইয়ের দাবি তোলা সম্ভব নয়। আইন প্রণেতা হিসেবে বিল যাচাই-বাছাই করা সংসদ সদস্যদের অধিকার ও দায়িত্বের অংশ। এটা কমিটিতে না দিয়ে সরাসরি পাস করার এত তাড়াহুড়া কী জন্য?”
একই সুরে এনসিপির সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ বিলের ২১, ২৫, ২৮, ৩৩ ও ৩৫ ধারাসহ বেশ কিছু ধারায় লিখিত সংশোধনী জমা দেওয়ার সুযোগ চাইলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, বিলটি অবিলম্বে বিবেচনার জন্য শর্ত আগেই স্থগিত হওয়ায় তখন লিখিত সংশোধনী গ্রহণের সময় ছিল না। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, আইন প্রণয়ন শুধু সংসদ সদস্যদের অধিকার নয়, তাদের দায়িত্বও। কোনো বিল না পড়ে বা যাচাই না করে কেবল সরকারের ওপর বিশ্বাস রেখে পাস করলে আইন প্রণেতাদের দায়িত্বে অবহেলা হতে পারে। আইন বোধহয় এভাবে প্রণয়ন হয় না। আইন তো বুঝে শুনে প্রণয়ন করতে হবে। ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতা আমাদের আছে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রতিটি বিল স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো বাধ্যতামূলক নয় এবং বিদেশি বড় বড় বিনিয়োগকারীদের চুক্তি ঝুলে থাকায় দ্রুত এই পদক্ষেপ জরুরি ছিল। স্পিকার বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সংশ্লিষ্ট বিধি স্থগিত করায় সংসদ সদস্যদের লিখিত নোটিশ বা সংশোধনী দেওয়ার অবকাশ ছিল না বলে জানায় সংসদ সচিবালয়। এই তড়িঘড়ি বিল পাসের প্রক্রিয়াটি ভবিষ্যতে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংসদীয় রীতির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
