নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সারাদেশে ঝুলে থাকা পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন আইনে বড় ধরনের সংস্কার আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত এই সংশোধনীতে জেলা পরিষদ ছাড়া বাকি সব স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী’র সংজ্ঞায় প্রথমবারের মতো ‘সেনাবাহিনী’কে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সাথে নির্বাচনকে আরও নিরপেক্ষ করতে সরকারি অনুদান বা এমপিওভুক্ত (মাসিক পে অর্ডার) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ বন্ধে বিধিতে নতুন নিষেধাজ্ঞা যুক্ত করার তোড়জোড় চলছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আগামী এক বছরের মধ্যে ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩২০টি পৌরসভা, ৫০০টি উপজেলা এবং নবগঠিত বগুড়াসহ ১৩টি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করার রোডম্যাপ চূড়ান্ত করেছে সরকার ও ইসি। মাঠ পর্যায়ের পরিস্থিতি ও জনস্বার্থ বিবেচনা করে আগামী অক্টোবর মাস থেকেই ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা পৌরসভার মাধ্যমে এই দীর্ঘ নির্বাচনী মহাযজ্ঞ শুরু হতে পারে। আইনি কাঠামো শক্তিশালী করতে আগামীকাল বা পরশু কমিশনের বিশেষ সভায় এই সংশোধনী প্রস্তাবগুলো চূড়ান্ত করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় সেনাবাহিনীও আসতে পারে। জেলা পরিষদ ছাড়া বাকি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আমরা এটা যোগ করতে পারি। তবে সংজ্ঞায় পরিবর্তন করলেও আমরা তাদের মোতায়েন করতে বাধ্য না। প্রয়োজন হলে সাহায্য নেব, প্রয়োজন না হলে মোতায়েন করব না। এছাড়া স্কুলের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে না পারেন। এমন বিধান বিধিতে রাখা হবে।”
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনি পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে ১ লক্ষ ৩ হাজার সেনাসদস্যসহ মোট ৯ লক্ষ ১৯ হাজার ২৮০ জন সদস্য মাঠে ছিলেন। তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সব জায়গায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের আইনি বা ব্যবহারিক নজির নেই। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবার আইনের সংজ্ঞায় সেনাবাহিনীকে যুক্ত করার ফলে মাঠ পর্যায়ে যেকোনো ধরনের সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা মোকাবিলায় কমিশন তাৎক্ষণিকভাবে সর্বোচ্চ সামরিক শক্তি ব্যবহারের আইনি বৈধতা পাবে। যা ভোটারদের মনে আস্থা ফেরাতে বড় ভূমিকা রাখবে।
একই সাথে এবারের নির্বাচনে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসক দিয়ে চলা সিটি করপোরেশন ও উপজেলাগুলোর নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সাথে আলোচনা করে দ্রুতই তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। আইনি সংস্কারের এই দৃঢ় পদক্ষেপ এবং মাঠ প্রশাসনে সেনাবাহিনীর পরোক্ষ উপস্থিতি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কতটা প্রভাবমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য করে তোলে। এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
