প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের আট বিভাগের মাঠ প্রশাসনের সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল সভায় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমওর সৌজন্যে
সারাদেশে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় দুর্গত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষা এবং দ্রুত ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মাঠ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের সাথে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের আটটি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারসহ (এসপি) মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে অনুষ্ঠিত এক বিশেষ ভার্চ্যুয়াল সভায় তিনি এই কড়া নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে মানুষের জানমাল রক্ষাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং এতে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশ করা হবে না।
একই দিন সকালে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে ঢাকার পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত দুটি পৃথক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন করেন। এর মধ্যে গুলশান-বারিধারা লেকের অবৈধ বর্জ্য লাইন আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পূর্ণ বন্ধের চূড়ান্ত আলটিমেটাম দেওয়ার পাশাপাশি ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের আমিনবাজার ও মাতুয়াইলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দুটি মেগা প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নিতে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক ডাকার নির্দেশ দেন তিনি।
মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে ভার্চ্যুয়াল সভায় উপস্থতি সিভিল সার্জন ও পুলিশ সুপাররা স্ব-স্ব এলাকার আশ্রয়কেন্দ্র, উদ্ধার অভিযান এবং চিকিৎসা সেবার সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। সভায় জানানো হয়, চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা কমতে শুরু করলেও মনু নদের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সিলেট অঞ্চলের পরিস্থিতি অবনতিশীল এবং রংপুরে নতুন করে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই তথ্য জানার পর প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সব ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেন।
উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) সাংবাদিকদের জানান, প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা এবং নারী, শিশু, প্রবীণ ও গর্ভবতী নারীদের বিশেষ নিরাপত্তা নিশ্চিতের তাগিদ দিয়েছেন। একই সাথে দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যেন চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি বা ত্রাণ আত্মসাতের মতো অপরাধে জড়াতে না পারে, সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
অন্যদিকে, সকালের বৈঠকে ঢাকার পরিবেশ রক্ষায় ধানমন্ডি ও গুলশান লেকের সংস্কার এবং স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট স্থাপন সংক্রান্ত প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন জানান, বৈঠকে ঢাকার দুই সিটির বর্জ্য বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরা হয়। চীনের সিএমইসি গ্রুপের বিনিয়োগে আমিনবাজারে প্রতিদিন ৩ হাজার টন বর্জ্য ব্যবহার করে ৪২.৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যা ২০২৮ সালের আগস্টে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ার বিঅ্যান্ডএফ কোম্পানির বিনিয়োগে মাতুয়াইলে বছরে ১৫ হাজার টন মিথেন গ্যাস ও বার্ষিক ৮১ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ইকো-ব্রিকস ও সার উৎপাদনের পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করা হয়।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দুই সিটির প্রশাসক এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের তাগিদ দেন। মাঠ পর্যায়ের প্রাকৃতিক দুর্যোগ সামাল দেওয়ার পাশাপাশি রাজধানীর দীর্ঘমেয়াদি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণকে সমান্তরাল গতিতে এগিয়ে নেওয়ার এই সরকারি তৎপরতা দেশের সামগ্রিক টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
