ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমান। ছবি: সৌজন্যে ডিএমসি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে গবেষণা, উদ্ভাবন ও চিকিৎসাসেবায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ডিএমসি) দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ কেন্দ্রে পরিণত হবে। আজ শনিবার (১১ জুলাই) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ‘ডিএমসি ডে’ উপলক্ষে ডা. শামসুল আলম খান মিলন মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে যোগ দিতে ডা. জুবাইদা রহমান তাঁর সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে এলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রযুক্তির আধুনিকায়নের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবায় মানবিক মূল্যবোধের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন ডিএমসির ৪৩তম ব্যাচের এই সাবেক শিক্ষার্থী।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, "চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভিত্তি জ্ঞান হলেও চিকিৎসা পেশার প্রকৃত ভিত্তি মানবিকতা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা যতই প্রযুক্তি নির্ভর হোক না কেন। তার কেন্দ্রবিন্দুতে সবসময় মানুষই থাকে। আমরা চাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হোক একটি ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স অ্যান্ড কমপ্যাশন ফর পেশেন্টস’। একটি আশ্বস্ত করার বাক্যও চিকিৎসায় ওষুধের মতো কাজ করে।"
বক্তব্যের শুরুতে ডা. জুবাইদা রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ডিএমসিতে পড়াশোনা ও ইন্টার্নিশিপের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি অতীতে চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট এবং রোগীদের অসহায়ত্বের একাধিক হৃদয়স্পর্শী ঘটনার বিবরণ দেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সময় এসেছে প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের (অ্যালামনাই) কেবল স্মৃতির বন্ধনে নয়। বরং দায়িত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ডিএমসির আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখার।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে গাড়ি চালিয়ে ডা. জুবাইদা রহমানকে নিয়ে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে আসেন এবং উভয় যৌথভাবে বেলুন উড়িয়ে ঐতিহ্যের এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভ উদ্বোধন করেন। এরপর তাঁরা ছাত্রীদের কাজী ফজলুল হক মহিলা হোস্টেলে যান। যেখানে ডা. জুবাইদা রহমান তাঁর ছাত্রজীবনে থাকতেন। সেখানে তাঁরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পরে ক্যাম্পাসে দুটি গাছের চারা রোপণসহ ছাত্রীদের দুটি হলের চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন।
অনুষ্ঠানের প্রথম অংশে ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভাবনা’ শীর্ষক একটি উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে সাবেক বিশিষ্ট শিক্ষার্থীরা দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতের আধুনিকায়নে তাঁদের পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপন করেন। ১৯৪৬ সালের ১১ জুলাই মাত্র ১০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করা ঢাকা মেডিকেল কলেজ আজ বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবায় শীর্ষতম আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুসররাত সুলতানার সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এমএন মুহিত এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মাজহারুল শাহীন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, স্বাস্থ্য সচিব ও চিকিৎসা খাতের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সহধর্মিণীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিল্পীর আঁকা একটি বিশেষ আলোকচিত্র উপহার দেওয়া হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
