বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও পর্যটন খাতকে গতিশীল করতে ২০০৬ সালের প্রচলিত ভিসা নীতিমালা সংশোধন করে নতুন আধুনিক ভিসানীতি প্রণয়ন করছে সরকার। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘ভিসানীতি-২০২৬’ এর খসড়া উপস্থাপন ও অনুমোদন দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে খসড়াটি চূড়ান্ত পরিমার্জনের জন্য অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিকালে বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “বিদেশিদের বাংলাদেশে আগমন ও প্রস্থান প্রক্রিয়া আরও সহজ এবং সুশৃঙ্খল করতেই এই উদ্যোগ। যুগোপযোগী এই ভিসানীতির মাধ্যমে দেশে বিদেশি বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে।”
প্রস্তাবিত নতুন নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য হলো জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা। একই সঙ্গে পর্যটন খাতের বিকাশ, প্রযুক্তি ও জ্ঞান স্থানান্তর নিশ্চিত করা এবং পারস্পরিক সমতার ভিত্তিতে একটি আধুনিক ও সেবামুখী অভিবাসন কাঠামো গড়ে তোলা।
গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কমিটি খসড়াটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা ও পরিমার্জন করে দ্রুতই চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পেশ করবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বলেন, “২০০৬ সালের পুরনো নীতিমালা দিয়ে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট মোকাবিলা করা কঠিন। নতুন ভিসানীতি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের পর্যটন ও আতিথেয়তা খাত আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন ঘটবে।”
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে দেশের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা যেমন সহজ হবে। তেমনি বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত হবে।