ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দিতে তেহরান যাচ্ছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ইরান সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের বিশেষ আমন্ত্রণে আগামী ৩ জুলাই ঢাকা থেকে তাঁর তেহরানের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত ইরানের তেহরান, কোম ও মাশহাদের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ইরাকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা এবং দাফন-সংক্রান্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। তেহরানের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত দুই দেশের দীর্ঘদিনের পারস্পরিক কূটনৈতিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণে মুসলিম বিশ্বসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, "ইরানের স্পিকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ-ইরানের দ্বিপক্ষীয় ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের গুরুত্ব বিবেচনা করেই জাতীয় সংসদের স্পিকার এই রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন।"
সফরসূচি অনুযায়ী, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ চার দিনব্যাপী এই শোক ও দাফন প্রক্রিয়া শুরুর আগের দিন ঢাকা ত্যাগ করবেন। তেহরান সফরকালে দেশটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গেও তাঁর সৌজন্য সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের পরবর্তী নেতৃত্ব এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে কী ধরনের প্রভাব পড়বে। তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে নানা আলোচনা চলছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধির এই সফর তেহরানের সঙ্গে ঢাকার বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করবে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।