× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর, কমছে টিআইএনের কড়াকড়ি

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

২৯ জুন ২০২৬, ২১:১৬ পিএম । আপডেটঃ ২৯ জুন ২০২৬, ২১:১৮ পিএম

সোমবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। ছবি: পিআইডি

সাধারণ করদাতাদের স্বস্তি দিতে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো এবং ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন (টিন) বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। একই সঙ্গে জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে স্বপ্রণোদিত বিনিয়োগ প্রদর্শন বা কালোটাকা সাদা করার বিতর্কিত বিধানটি বাতিলেরও প্রস্তাব করেন সরকারপ্রধান।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রতি তিনি এ আহ্বান জানান। 

স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে আজ সকাল সাড়ে ১০টায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। সমাপনী ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর-ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও করদাতাবান্ধব করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, "নরমালি দাবিটা বিরোধী দল থেকে হয়ে থাকে। আমি আপাতত ফিজিক্যালি না হলেও মানসিকভাবে ওনাদের পাশে গিয়ে কথা বলতে চাই।"

তারেক রহমান বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-৮ করবর্ষে করমুক্ত আয়ের সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার যে প্রস্তাব ছিল। তা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হোক। একইভাবে পরবর্তী করবর্ষগুলোতেও এই সীমা যথাক্রমে সাড়ে ৪ লাখ এবং ৫ লাখ টাকা করার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রাখছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জমি প্রকৃত মূল্যে নিবন্ধন না হওয়ার কারণে করদাতাদের হয়রানি কমাতেই এ বিধান আনা হয়েছিল। তবে অনেকেই এটিকে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তাই জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রস্তাবিত এই বিধানটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার জন্য তিনি অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

করের আওতা বাড়াতে ব্যাংক হিসাব খোলা, বণ্টননামা দলিল নিবন্ধন ও সম্পত্তি নামজারির ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানান। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার প্রসারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর আরোপিত ১০ শতাংশ কর কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেন তিনি। তবে শর্ত হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পার্বত্য ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বেতনের আয় করমুক্ত করার সুপারিশ করেন সরকারপ্রধান। এর পাশাপাশি চিংড়িশিল্পের প্রসার ও রপ্তানি বাড়াতে ফিড অ্যাডিটিভ, প্রোবায়োটিকস ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আমদানির ওপর আরোপিত শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেন তিনি। স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষায় ওষুধ ও শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত মধু, পিইটি রেজিন, পিভিসি এবং কোল্ড-রোলড শিটের মতো কাঁচামাল আমদানিতেও শুল্ক হ্রাস বা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

গত ১১ জুন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংসদে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই জনবান্ধব ও দূরদর্শী প্রস্তাবনাগুলোর পর অর্থমন্ত্রী আজই মূল বাজেটে প্রয়োজনীয় সংশোধন এনে তা পাসের জন্য পেশ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.