একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার। ফাইল ছবি
‘বাংলাদেশের পাপেটম্যান’ হিসেবে খ্যাত একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী, নির্দেশক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিউমোনিয়া ও প্রোস্টেট ক্যানসারের মতো জটিল রোগে ভুগছিলেন।
সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে আটটায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চলতি মাসের ১৪ তারিখে গুণী এই শিল্পীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। আজ সকালে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর সাংস্কৃতিক অঙ্গনসহ দেশজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে।
পারিবারিক সূত্র জানায়, আজ রাতে শিল্পীর মরদেহ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বেলা ১১টায় সর্বসাধারণের শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।
বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ তাঁর স্মৃতিবিজড়িত চারুকলা অনুষদে নেওয়া হবে। এরপর ঢাকার বনানী কবরস্থানে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হবে।
আজ সকালে হাসপাতাল থেকে শিল্পীর মরদেহ ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদ হয়ে তাঁর ১ নম্বর সড়কের নিজ বাসভবনে নেওয়া হলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেখানে দীর্ঘদিনের সহকর্মী, আত্মীয়স্বজন ও অনুরাগীরা চোখের জলে তাঁকে শেষ বিদায় জানান। শ্রদ্ধাজ্ঞাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিল্পী ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবী গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, "মুস্তাফা মনোয়ারের প্রস্থান বাংলাদেশের শিল্প ও সংস্কৃতির জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি শুধু একজন শিল্পী ছিলেন না, ছিলেন আমাদের শুদ্ধ সংস্কৃতির বাতিঘর।"
বিটিভির মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম, বিশিষ্ট অভিনেতা তারিক আনাম খানসহ সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, বাংলা একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে শিল্পীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করা হয়েছে।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর কবি গোলাম মোস্তফার ঘরে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে যোগ দিয়ে কারাবরণ করা এই মহান ব্যক্তিত্ব ছিলেন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের লাল সূর্যের অন্যতম স্থপতি। কর্মজীবনের শুরুতে চারুকলা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক হিসেবে যোগ দিলেও পরবর্তীতে বিটিভি, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি ও শিল্পকলা একাডেমির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থীশিবিরের আতঙ্কগ্রস্ত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে তিনি প্রথম পাপেট শোর আয়োজন করেন। স্বাধীন বাংলাদেশে পাপেটের আধুনিক রূপকার হিসেবে ‘পারুল’ চরিত্রের সৃষ্টি এবং বিশ্বখ্যাত ‘মীনা’ কার্টুনের নেপথ্য কারিগর ছিলেন তিনিই। এ ছাড়া শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে তাঁর নির্মিত বিটিভির জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’ ও ‘মনের কথা’ দেশের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে। শিল্পকলায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তাঁকে ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত করা হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
