× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

চীনের বাজারে যাচ্ছে বাংলাদেশের কাঁঠাল

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

২৮ জুন ২০২৬, ২৩:০৬ পিএম । আপডেটঃ ২৯ জুন ২০২৬, ০১:০৩ এএম

বাংলাদেশের সুমিষ্ট কাঁঠাল। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে কাঁঠাল রপ্তানি সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, এই চুক্তি দেশের ঝিমিয়ে পড়া কৃষি পণ্য রপ্তানি খাতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচন করেছে।

বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস এবং তৈরি পোশাকের বাইরে রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্যকরণে নেওয়া এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় ফল চীনের বিশাল বাজারে প্রবেশের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেল। 

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে অবকাঠামো, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ডিজিটাল ইকোনমিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন নিশ্চিত করেছেন যে, দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার বিষয়টি সর্বোচ্চ প্রাধান্য পেয়েছে। যার অন্যতম অংশ এই কাঁঠাল রপ্তানি চুক্তি।

বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল আমদানিতে বেইজিংয়ের এই আগ্রহ অবশ্য আকস্মিক নয়। এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে চীন যখন বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো কাঁচা আম আমদানি শুরু করে। তখনই দেশটির রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে উৎপাদিত কাঁঠাল ও পেয়ারার প্রতি গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন।

কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশ প্রধানত কৃষিনির্ভর দেশ হলেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রাখতে না পারায় এ খাতে রপ্তানি আশানুরূপ বাড়েনি। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম এই বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন।

ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম বলেন, "আমাদের টোটাল কৃষি খাতের রপ্তানি এখনো তেমন ভালো নয়। আমরা যতটুকু রপ্তানি করি তার বেশিরভাগই এথনিক মার্কেটে (নির্দিষ্ট জাতি বা গোষ্ঠীভিত্তিক বাজার)। কোয়ালিটি মেইনটেইন না হওয়ায় ইউরোপিয়ান মার্কেটে এখনো আমরা তেমন ঢুকতে পারিনি।"

তবে চীনের সঙ্গে এই নতুন চুক্তিকে বাজার সম্প্রসারণের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি। ড. ইসলাম বলেন, "এর মাধ্যমে একটা নতুন বিজনেস চ্যানেল তৈরি হবে, যা সরাসরি আমাদের প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সুফল বয়ে আনবে।"

সম্ভাবনার পাশাপাশি কাঁঠাল বা কাঁঠালজাত খাদ্যদ্রব্য রপ্তানির ক্ষেত্রে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ এবং আধুনিক প্যাকেজিংয়ের মতো অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার ঘাটতিকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে কাঁঠালের পচনশীল প্রকৃতি ও পরিবহনের ঝুঁকি চিন্তার বড় কারণ।

বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-বেজড প্রোডাক্টস প্রডিউসারস অ্যান্ড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ রুহুল আমিন এ প্রসঙ্গে তাঁর পূর্ব অভিজ্ঞতা ও আশঙ্কার কথা জানান। অতীতে তাঁদের সংগঠনের পক্ষ থেকে দেশে কারখানা স্থাপন করে কাঁঠালের চিপস, আচার ও জেলি তৈরি করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানির একটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও নানা নীতিগত ও আইনি জটিলতায় তা ভেস্তে যায়।

মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, "কাঁঠাল দিয়ে তৈরি পণ্য কয়েকটি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। কিন্তু চীন কীভাবে নেবে সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। কারণ কাঁঠাল সংরক্ষণ ও পরিবহনের ক্ষেত্রে কিছু ঝুঁকি আছে। চীন যদি এখানে বিনিয়োগ করে বা প্রক্রিয়াজাতকরণের ক্ষেত্রে কারিগরি সহায়তা দেয়, তবে পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ হবে।"

বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন আমদানির পাশাপাশি কারিগরি সহায়তা দিলে বাংলাদেশ উন্নত প্রযুক্তি শেখার সুযোগ পাবে। যা স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাপনায় কাজে লাগবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় দেশীয় পুষ্টির চাহিদাকে যাতে অবহেলা করা না হয়। সে বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন কৃষি অর্থনীতিবিদরা।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.