বাংলাদেশে প্রবেশের পর সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করছেন ঢাকায় নিযুক্ত নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যাপক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। যা আঞ্চলিক পর্যবেক্ষক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের ‘অখণ্ড ভারত’ ভাবনার প্রতিধ্বনি হিসেবে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) সীমান্ত পার হওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দুই দেশের যৌথ জনসংখ্যাকে "১৬০ কোটির বিশাল শক্তি" হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক অভিন্নতার ওপর জোর দেন।
‘মনেই হচ্ছে না বাংলাদেশে আছি’
সীমান্ত পার হয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক নৈকট্যকে অত্যন্ত আবেগঘন ভাষায় তুলে ধরেন। তিনি দুই দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে একক শক্তি হিসেবে মূল্যায়নের প্রস্তাব করেন।
তিনি মন্তব্য করেন, "ভারতের ১৪০ কোটি এবং বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষ মিলিয়ে ১৬০ কোটি মানুষের একটি বিশাল শক্তি তৈরি হতে পারে। দেখুন তো, হেঁটে চলে এলাম। মনেই হচ্ছে না যে আমি বাংলাদেশে আছি।"
তার এই বক্তব্য কেবল দুই প্রতিবেশীর ঐতিহাসিক ও সামাজিক বন্ধনকেই সামনে আনেনি, বরং সীমান্তরেখাকে প্রায় অদৃশ্য হিসেবে বর্ণনা করায় ঢাকার রাজনৈতিক মহলে সুক্ষ্ম প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে ‘অখণ্ড ভারত’ ধারণাটি দীর্ঘদিন ধরেই একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং বিতর্কিত বিষয়। যদিও নবনিযুক্ত হাইকমিশনার সরাসরি কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডার কথা উল্লেখ করেননি, তবুও দায়িত্ব নেওয়ার আগেই তার এমন খোলামেলা বক্তব্যকে নিছক সৌজন্যমূলক হিসেবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকদের মতে, একজন শীর্ষ কূটনীতিকের মুখে "একই আকাশ, একই বাতাস" এবং দুই দেশের জনগণকে একটি বৃহৎ যৌথ শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করার গভীর রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে। এটি দিল্লির দীর্ঘমেয়াদী আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের কৌশলের অংশ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিতর্কের পাশাপাশি দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশ ও ভারতের গণতান্ত্রিক শক্তির ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিকগুলো নিয়েও তার দূরদর্শী ভাবনার কথা জানান।
তিনি বলেন, "দুই দেশের শক্তিশালী গণতন্ত্র যদি একসঙ্গে কাজ করতে পারে, তবে তা বৈশ্বিক রাজনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম হবে।"
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব আরও বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
নতুন হাইকমিশনারের বক্তব্যের অন্যতম ইতিবাচক দিক ছিল দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করা। বিশেষ করে স্থগিত বা সীমিত থাকা পর্যটন ভিসা পুনরায় পুরোদমে চালুর বিষয়ে তিনি ইতিবাচক আশ্বাস দেন।
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামীতে এমন সব কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হবে যাতে উভয় দেশের সাধারণ মানুষই উপকৃত এবং সন্তুষ্ট হতে পারেন। এর মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের সমান্তরালে সামাজিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন।
বাংলাদেশে পা রেখেই দীনেশ ত্রিবেদীর দেওয়া এই নীতি-বার্তা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তার কূটনৈতিক মেয়াদে ঢাকা-দিল্লির ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হবে। তবে সেই ঘনিষ্ঠতার ভাষা যখন সার্বভৌম সীমান্ত, জনসংখ্যা ও অভিন্ন পরিচয়ের প্রসঙ্গকে স্পর্শ করে, তখন তা স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।
ঢাকায় তার আগামী দিনের কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া কেমন হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে সামগ্রিক আঞ্চলিক রাজনীতির নতুন সমীকরণ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
