× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

অবৈধ নাগরিকদের ফিরিয়ে নিচ্ছে না ভারত

বাংলাদেশে অর্থনীতি ও নিরাপত্তায় বড় ঝুঁকি

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১১ জুন ২০২৬, ১৩:৫৯ পিএম । আপডেটঃ ১১ জুন ২০২৬, ১৭:৫৬ পিএম

ভারত ও বাংলাদেশের পতাকা। প্রতীকী ছবি

বৈধ কাগজপত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সাড়ে আট হাজারেরও বেশি ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে অবৈধভাবে অবস্থান করে বিভিন্ন সেক্টরে কর্মসংস্থান গড়ে তুলেছেন, যা দেশের অর্থনীতি ও সার্বিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। মূলত টুরিস্ট, বিজনেস কিংবা অন-অ্যারাইভাল ভিসা নিয়ে প্রবেশ করে পরবর্তীতে পোশাক, আইটি ও করপোরেট খাতে অবৈধভাবে জড়িয়ে পড়া এই নাগরিকদের কারণে দেশ বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও দেশীয় যুবসমাজের কর্মসংস্থানে।

সরকারি হিসাবে দেশে অবস্থানরত প্রায় ২৫ হাজার বিদেশি নাগরিকের মধ্যে ভারতীয়দের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি হলেও, সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা—প্রকৃত সংখ্যাটি এই হিসাবের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। 

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বৈধ ওয়ার্ক পারমিট বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ভারতীয়সহ বিদেশি নাগরিকদের এভাবে থেকে যাওয়ার প্রবণতা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। এই নাগরিকেরা মূলত টুরিস্ট বা বিজনেস ভিসা নিয়ে দেশে প্রবেশ করার পর আর নিজ দেশে ফিরে যাননি।

বর্তমানে দেশের তৈরি পোশাক খাত (আরএমজি), টেক্সটাইল, বায়িং হাউস, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং বিভিন্ন এনজিওর মধ্যম থেকে উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনায় বিপুল সংখ্যক ভারতীয় নাগরিক কাজ করছেন। এদের বড় একটি অংশেরই কোনো বৈধ ওয়ার্ক পারমিট বা বৈধ আয়কর নথি নেই।

বৈধ নথিপত্র না থাকায় এই অবৈধ বিদেশি কর্মীরা সরকারকে কোনো প্রকার ট্যাক্স বা আয়কর দিচ্ছেন না, যার ফলে বাংলাদেশ সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এর চেয়েও বড় সংকট তৈরি হচ্ছে মুদ্রা পাচারে; তারা হুন্ডি বা বিভিন্ন অবৈধ চ্যানেলের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ ভারতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করছে।

এই বিপুল সংখ্যক বিদেশীর অবৈধ কর্মসংস্থানের ফলে স্থানীয় শিক্ষিত ও দক্ষ যুবসমাজ তীব্র বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। বাংলাদেশের যোগ্য তরুণরা যখন উচ্চপদস্থ চাকরির জন্য প্রতিনিয়ত লড়াই করছেন, তখন টেক্সটাইল ও করপোরেট খাতের অনেক শীর্ষ ও লাভজনক পদ এই বিদেশি নাগরিকদের দখলে চলে যাচ্ছে।

অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি আইনি নথিপত্র ছাড়া বসবাসকারী এই নাগরিকদের বড় একটি অংশ বিভিন্ন সময়ে জালিয়াতি এবং আর্থিক প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। বাংলাদেশে যথাযথ ট্র্যাকিং সিস্টেম না থাকায় এসব অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর অপরাধীদের চিহ্নিত করা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই সংকট নিরসনে বাংলাদেশ সরকার নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে অবৈধ ভারতীয়দের নিজ দেশে হস্তান্তর করতে চায় এবং এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে নয়া দিল্লিকে বেশ কয়েকটি চিঠিও দেওয়া হয়েছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে এই চিঠিগুলোকে তেমন একটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "আমরা অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে এই অবৈধ নাগরিকদের তাদের দেশে ফেরত পাঠাতে চাই। কিন্তু ভারতের পক্ষ থেকে তাদের নাগরিকদের ফেরত নেওয়ার কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না, উল্টো বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইন বা বাংলাদেশে লোক ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।"

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখলেও ভারতের উদাসীনতায় বিষয়টির স্থায়ী সমাধান মিলছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় অবিলম্বে একটি সমন্বিত ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করা এবং অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি অভিযান পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.