× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

‘ইসলামী ব্যাংকের অর্থ নির্বাচনী তহবিলে যাওয়ার অভিযোগ প্রমাণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জামায়াত আমিরের চ্যালেঞ্জ’

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

১০ জুন ২০২৬, ০২:২৮ এএম । আপডেটঃ ১০ জুন ২০২৬, ০৩:৩৬ এএম

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। ফাইল ছবি

ইসলামী ব্যাংকের অর্থ কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী তহবিলে যাওয়ার সরকারি অভিযোগকে ‘কূটনৈতিক নেকাব’ আখ্যা দিয়ে তা প্রমাণের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। জামায়াত আমির জানান, ইসলামী ব্যাংক থেকে ৭০০ কোটি টাকার ঋণ কোনো দলের নির্বাচনী তহবিলে যাওয়ার যে ইঙ্গিত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়েছেন, তা যদি জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়ে থাকে এবং তা যদি প্রমাণিত হয়, তবে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে মেডেল দেবেন।

মঙ্গলবার বিকেলে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে তিনি এ চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করেন। 

এর আগে অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক অনিয়ম ও ঋণ বিতরণের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তার এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা ও জবাব দিতে গিয়ে ফ্লোর নেন ডা. শফিকুর রহমান। জামায়াত আমির সংসদে বলেন, "তিনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) যেসব অভিযোগ আনলেন কোনো একটা দলের দিকে ইঙ্গিত করে, একবারে নাম বলে দিলেই পারতেন যে জামায়াতে ইসলামী। উনি বলছেন, মাঝেমধ্যে নেকাব খোলা ভালো—তো এটা এখানে খুলে দিতেন, নেকাব রাখলেন কেন? যদি উনি জামায়াতকে মিন করে থাকেন, আই অ্যাম টেকিং অ্যাবসলিউট চ্যালেঞ্জ।"

তিনি ইসলামী ব্যাংকের রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্কিমের (আরডিএস) অর্থায়ন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া ১১ হাজার কোটি টাকার রেফারেন্সও সম্পূর্ণ নাকচ করে দেন। জামায়াত আমির বলেন, আরডিএস কোনো নির্দিষ্ট দল বা ধর্মের নয়। দলের ফান্ডে এই প্রকল্পের বা ব্যাংকের একটি টাকাও যদি এসে থাকে, তবে ‘সার্চলাইট’ দিয়ে তা তালাশ করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি সরকারকে অনুরোধ জানান।

শফিকুর রহমান বলেন, এই ব্যাংক থেকে সুনির্দিষ্ট একজন ব্যক্তি একাই নিজের নামে ৮২ হাজার কোটি টাকা নিয়েছেন, অথচ তাঁর কেনা ৮২ শতাংশ শেয়ারের বাজারমূল্য মাত্র ১২ হাজার কোটি টাকা। বিশেষ একটি এজেন্সির মাধ্যমে মূল শেয়ারহোল্ডারদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করে জোরপূর্বক এই শেয়ার হস্তান্তর করতে বাধ্য করা হয়েছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন। জামায়াত আমির বলেন, "তিনি (এস আলম) কইয়ের তেল দিয়ে শুধু কই ভাজেন নাই, কইও ভেজেছেন, শোল মাছও ভেজেছেন এবং এগুলো সব ব্যাংক থেকে ডাকাতি করা টাকা।"

ইসলামী ব্যাংককে দেশের আপামর জনসাধারণের ব্যাংক উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, কোনো কারণে দেশের সর্ববৃহৎ এই ব্যাংকটি যদি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতি মাটির সঙ্গে মিশে যাবে। তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাংকটিকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধ্বংস করেছেন এবং এস আলমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন, কিন্তু এখন পুনরায় সেই এস আলমকেই ফিরে আসার পথ করে দেওয়া হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ইসলামী ব্যাংকের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের অতীত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি দাবি করেন, উক্ত ব্যক্তি যখন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ছিলেন, তখন তিনি এস আলমের সব অপকর্মের সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখেছিলেন।

বক্তব্যের শেষাংশে জামায়াত আমির জোরজবরদস্তি করে যাদের কাছ থেকে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ডাকাতি করা হয়েছিল, অনতিবিলম্বে সসম্মানে সেই মূল্যেই তা প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এরপর সরকার সব নিয়ম-কানুন মেনে নতুন বোর্ড গঠন করলে তাতে বিরোধী দলের পূর্ণ সমর্থন থাকবে জানিয়ে তিনি দ্রুত ব্যাংক খাতের তারল্য সংকট ও আমানতকারীদের ভোগান্তি নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.