মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা প্রত্যর্পণ ও সাম্প্রতিক পরিচালনা পর্ষদের অনিয়মকে কেন্দ্র করে আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। আলোচনায় ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পরবর্তী সময়ে ব্যাংকের নিয়মনীতি লঙ্ঘন, ব্যাপক কর্মকর্তা ছাঁটাই ও বিতর্কিত ঋণ বিতরণের একটি তালিকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তুলে ধরলে বিরোধী দল সেই অভিযোগ প্রমাণের পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়।
সংসদের ৬৮ বিধি অনুযায়ী বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের আনা এক নোটিশের ওপর আলোচনাকালে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আলোচনার সূত্রপাত করে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জোরজবরদস্তি ও বেআইনিভাবে কেড়ে নেওয়া ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার জোর দাবি জানান। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “একবার যেই ব্যাংক আজান দিয়ে, তকবিরে লিল্লাহ দিয়ে দখল করা হলো, সেই ব্যাংকের দখলটা বেদখল হয়ে যাবে—এই যাতনা তো আমরা বুঝি মাননীয় স্পিকার। ইসলামের নামেই এই অনিয়মগুলো হয়েছে এবং এগুলো তদন্ত হলে অনেকের নামই সামনে চলে আসতে পারে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৫ই আগস্টের পর নাবিল গ্রুপকে ৭০০ কোটি টাকার এলসি লোন দেওয়া হলেও সেই টাকা ব্যাংকে ফেরত আসেনি, যা কোনো একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী তহবিলে গেছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংকের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প ‘আরডিএস’-এর মাধ্যমে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে নিয়মবহির্ভূতভাবে আরও ১১ হাজার কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে। প্রশাসনিক অনিয়মের খতিয়ান দিয়ে তিনি দাবি করেন, ব্যাংকটি দখলের পর সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের ৯ হাজার কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করে নতুন করে ৬ হাজার কর্মী নিয়োগ এবং অন্যায্যভাবে ১৩ হাজার পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন পরোক্ষ ও ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ফ্লোর নেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “তিনি যেসব অভিযোগ আনলেন কোনো একটা দলের দিকে ইঙ্গিত করে, একবারে নাম বলে দিলেই পারতেন যে জামায়াতে ইসলামী। মাঝে মাঝে নেকাব খুলে দেওয়া ভালো হলে উনি নেকাব রাখলেন কেন? তিনি যদি এই অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেন, তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে তাঁকে একটি মেডেল দেব।”
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, কেবল একজন চেয়ারম্যানের মনোনয়নের জের ধরে গ্রাহকেরা ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নিয়ে চলে যাচ্ছেন—এমন নজির বিশ্বের কোথাও নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যই ইসলামী ব্যাংককে পরিকল্পিতভাবে ব্যর্থ করানোর চেষ্টা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ইসলামী ব্যাংকের সামগ্রিক সংকট খতিয়ে দেখতে একটি সংসদীয় তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান বিরোধীদলীয় উপনেতা ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তবে প্রস্তাবটি সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়ায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ তা নাকচ করে দেন। দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক এই ব্যাংকের আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং মালিকানা সংকটের ভবিষ্যৎ আইনি নিষ্পত্তি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী আলোচনা চলছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
