× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

রংপুর বিভাগ দখলে ভারতের নীলনকশা: ঝুঁকিতে দেশের সার্বভৌমত্ব

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

০৮ জুন ২০২৬, ০২:২৫ এএম । আপডেটঃ ০৮ জুন ২০২৬, ০২:৩২ এএম

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশের রংপুর বিভাগকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য ভারতীয় থিংক ট্যাংকগুলোর সাম্প্রতিক প্রস্তাবনা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করেছে। প্রতীকী ছবি

বাংলাদেশের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করে রংপুর বিভাগকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার এক সুদূরপ্রসারী ও বিপজ্জনক নীলনকশা আঁকছে ভারতের কট্টরপন্থী নীতিনির্ধারক ও সামরিক বিশ্লেষকরা। ভারতের প্রথম জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য ভরত কারনাদ ও কট্টরপন্থী গণমাধ্যম ‘স্বরাজ্য’ ম্যাগাজিনের সাম্প্রতিক কিছু নীতি-প্রস্তাবনা এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর একটি বিতর্কিত প্রজেক্টে ভারতীয় দূতাবাসের সন্দেহজনক সংশ্লিষ্টতা থেকে এই আগ্রাসী পরিকল্পনার ভয়াবহ তথ্য সামনে এসেছে।

শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন নেক’-এর সামরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অজুহাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কৌশলগত অঞ্চলগুলোতে বিপুল পরিমাণ গোপন অর্থায়ন ও সন্দেহজনক তৎপরতা শুরু হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য চরম উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। 

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আটটি রাজ্যকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত রাখা মাত্র ২০-২২ কিলোমিটারের সংবেদনশীল ‘শিলিগুড়ি করিডোর’ বা ‘চিকেন নেক’-এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের জমি কেড়ে নেওয়ার প্রকাশ্য প্রস্তাব দিচ্ছেন ভারতীয় স্ট্র্যাটেজিস্টরা। নয়াদিল্লির ‘সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চ’-এর সিনিয়র ফেলো ভরত কারনাদ সম্প্রতি তাঁর এক প্রস্তাবে রংপুর দখলের দুটি সুনির্দিষ্ট পথ বাতলে দিয়েছেন। প্রথমটি হলো— ঢাকাকে ১০ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়ে ১৬ হাজার বর্গকিলোমিটারের রংপুর বিভাগ কিনে নেওয়া (লুইজিয়ানা পারচেজ মডেল), আর দ্বিতীয়টি হলো— বাংলাদেশ রাজি না হলে সরাসরি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে এই ভূখণ্ড কেড়ে নেওয়া।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই ভূখণ্ডগত আগ্রাসনের অংশ হিসেবে রংপুরের প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশের ভেতরের দিকে পুশব্যাক করা এবং জনসংখ্যা বিনিময়ের মাধ্যমে এক ভয়াবহ জাতিগত নিধনের নীলনকশা সাজানো হচ্ছে।

রংপুর ছাড়াও খুলনা ও সিলেট বিভাগ নিয়ে ভারতের 'স্বরাজ্য' ম্যাগাজিনে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে প্রকাশিত একাধিক কলামে বাংলাদেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল কেটে হিন্দুদের জন্য একটি ‘হোমল্যান্ড’ বানানোর বিশদ অপারেশনাল ছক প্রকাশ করা হয়েছে। কলামিস্ট জয়দীপ মজুমদারের মতে, এই আগ্রাসন বাস্তবায়নে ৪টি সুনির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করা হচ্ছে:

  • প্রথম ধাপ: আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের কাল্পনিক প্রচার চালানো।


  • দ্বিতীয় ধাপ: দেশীয় সংখ্যালঘু সংগঠনগুলোকে বিপুল অর্থায়নে উগ্র আন্দোলনে নামিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠদের ক্ষুব্ধ করা।


  • তৃতীয় ধাপ: এই ক্ষোভ ও পাল্টা আক্রমণকে সামরিক আগ্রাসনের অজুহাত বা 'ক্যাসাস বেলি' হিসেবে ব্যবহার করা।


  • চতুর্থ ধাপ: ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে ভারতীয় বাহিনীকে সহায়তার জন্য একটি অভ্যন্তরীণ অংশকে প্রস্তুত করা এবং দ্রুত সামরিক অভিযান চালিয়ে ভূখণ্ড দখল করা। এই চক্রান্তের পেছনে প্রায় ২ কোটি ৬৮ লাখ মানুষকে তাদের জন্মভিটা থেকে উচ্ছেদ করার নীলনকশা রয়েছে।

তাত্ত্বিক এই পরিকল্পনার সাথে মাঠপর্যায়ের সংযোগ মেলাতে গিয়ে ভৌগোলিক মানচিত্রের অত্যন্ত সংবেদনশীল অঞ্চল ‘বালুরঘাট-গাইবান্ধা রেখা’র কেন্দ্রবিন্দু পলাশবাড়ীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী পলাশবাড়ীতে হিন্দু জনসংখ্যা মাত্র ৬.৪ শতাংশ হলেও, সেখানে শত কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম কৃষ্ণ ও রাম মূর্তি সম্বলিত ‘রাধাগোবিন্দ মন্দির থিম পার্ক’ গড়ে তোলা হয়েছে। সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই ভৌগোলিক স্থানে বিপুল অর্থায়নের উৎস এবং ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনারের নিয়মিত যাতায়াত দেশের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই বিশাল প্রজেক্টের নেপথ্যে রয়েছেন হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ওরফে তৌহিদ (৩৪) নামের এক রহস্যময় ব্যক্তি। ২০১৮ সাল পর্যন্ত সাধারণ এসি মেকানিক থাকা এই ব্যক্তি বিগত সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর ভুয়া আত্মীয় পরিচয়ে সোনা চোরাচালান ও জালিয়াতির মাধ্যমে শত কোটি টাকার মালিক বনে যান। উদ্বেগের বিষয় হলো, দেশের বর্তমান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর (বিএনপি-জামাত) স্থানীয় শীর্ষ নেতারাও কোনো প্রকার খোঁজখবর না করেই এই চক্রটিকে আশকারা দিয়ে যাচ্ছেন।

এই ভূ-রাজনৈতিক চক্রান্ত ও রাজনৈতিক দলগুলোর অন্ধত্ব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। একজন শীর্ষ সামরিক বিশ্লেষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "ভারতের কট্টরপন্থীদের এই সুদূরপ্রসারী নকশা কেবল কোনো তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং মাঠপর্যায়ের সন্দেহজনক অর্থায়ন ও তৎপরতা এর বাস্তব প্রমাণ। রাজনৈতিক দলগুলোর অসচেতনতার কারণে দেশের সার্বভৌমত্ব আজ চরম ঝুঁকির মুখে। বাংলাদেশের ভূখণ্ড নিয়ে যেকোনো ধরনের আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ও দেশের ভেতরের দালালদের কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।"

রংপুরকে বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে বিচ্ছিন্ন করার এই প্রকাশ্য উসকানিমূলক পরিকল্পনার বিরুদ্ধে দেশের সাধারণ জনগণ এবং দেশপ্রেমিক মহলে এখনই তীব্র প্রতিরোধ ও জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার দাবি উঠেছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.