প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেছেন, বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। এখন আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর উপযুক্ত সময়।" আজ রোববার (৭ জুন) সকালে কর্মমুখী ও টেকনিক্যাল শিক্ষা বিষয়ে শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি প্রথাগত সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষার আমূল পরিবর্তন ঘটিয়ে দেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, "দেশের জন্য যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের অবদানকে প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে একটি টেকসই ও জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ে তুলতে হবে; এর কোনো বিকল্প নেই।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কর্মসংস্থানহীন প্রথাগত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়ে এই মুহূর্তে দেশের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা বেশি জরুরি। বিগত সরকারের ভ্রান্ত শিক্ষানীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির কারণে শিক্ষাঙ্গনগুলো যে স্থবিরতার মুখে পড়েছিল, তা থেকে উত্তরণের জন্য এই শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তিনি আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সম্প্রসারণে শিক্ষকদের আরও বেশি নিয়োজিত হওয়ার আহ্বান জানান। নতুন এই শিক্ষাদর্শন দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে সরকার আশা প্রকাশ করছে।
শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধনের পর, দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যউপদেষ্টা কমিটির তৃতীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের সভায় সংসদ নেতা হিসেবে তিনি দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।
সংসদের এই অধিবেশনে দেশের ভেঙে পড়া বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক খাত সংস্কার ও পুনর্গঠনের জন্য বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য এবং সংসদীয় তৎপরতা আগামী দিনের রাষ্ট্রীয় সংস্কারের একটি রূপরেখা নির্দেশ করে। শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং সংসদীয় গণতন্ত্রকে কার্যকর করার মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি বৈষম্যহীন ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার পথে কতটুকু এগিয়ে যেতে পারে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।