× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

পাহারা দিচ্ছে গ্রামবাসী

বিএসএফের একাধিক পুশইন চেষ্টা প্রতিরোধ করল বিজিবি

ন্যাশনাল ট্রিবিউন রিপোর্ট

০৭ জুন ২০২৬, ০২:১৫ এএম । আপডেটঃ ০৭ জুন ২০২৬, ০২:২৭ এএম

বিজিবির কঠোর বাধার মুখে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের শূন্য রেখায় (জিরো পয়েন্ট) খোলা আকাশের নিচে আটকে পড়া পুশইনের শিকার কয়েকজন ভারতীয় নাগরিক, পেছনে সতর্ক অবস্থানে বিএসএফ সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্ত সুরক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ইস্পাতকঠিন অবস্থানের মুখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ধারাবাহিক ‘পুশইন’ বা জোরপূর্বক অবৈধ অনুপ্রবেশের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবির কড়া নজরদারির পাশাপাশি এবার সীমান্ত এলাকার সাধারণ বাসিন্দারা ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধে বাধ্য হয়ে লালমনিরহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পাটগ্রাম সীমান্ত থেকে অন্তত ৭০ জন নাগরিককে নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়েছে বিএসএফ। তবে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও ও মেহেরপুর সীমান্তের জিরো পয়েন্টে নারী ও শিশুসহ আরও অন্তত ২৮ জন ভারতীয় নাগরিক খোলা আকাশের নিচে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, যাদের ফিরিয়ে নিতে এখনো অস্বীকৃতি জানাচ্ছে বিএসএফ।

শনিবার (৬ জুন) ভোর থেকে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, দিনাজপুরের হিলি এবং শেরপুর ও সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্তসহ দেশের বিভিন্ন স্পর্শকাতর পয়েন্টে এই পুশইনের চেষ্টাগুলো চালানো হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিজিবি সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দা এবং গ্রাম পুলিশের সমন্বয়ে রাত ও দিনের ২৪ ঘণ্টা সীমান্তে প্রতিরোধ বলয় গড়ে তুলেছেন।


ভোররাতে গাংনীতে উত্তেজনা ও স্থানীয়দের প্রতিরোধ

ভোরের আলো ফোটার আগেই মেহেরপুরের তেঁতুলবাড়িয়া সীমান্তের হাটপাড়া এলাকায় খবর ছড়ায় যে কাঁটাতারের গেট খুলে ৩ জন পুরুষ, ৩ জন নারী ও একটি শিশুকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বিএসএফ। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় গ্রামবাসীরা সীমান্তে জড়ো হয়ে বিজিবির সাথে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। প্রবল বাধার মুখে অনুপ্রবেশকারীরা সীমান্তের কাঁটাতারের কাছেই থমকে যায় এবং বর্তমানে ভারতের ভেতরে অবস্থান করছে।

ঘটনার পর সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করে হ্যান্ডমাইকে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। তেঁতুলবাড়িয়া বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।"


কুষ্টিয়ায় জনগণের ঢাল ও হিলিতে গ্রাম পুলিশের টহল

কুষ্টিয়া সীমান্ত এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে বিএসএফের একাধিক পুশইনের তৎপরতা জোরালো হয়েছে। ওপারে বিভিন্ন হোল্ডিং সেন্টারে ১০ থেকে ১৫ জন করে দল গঠন করে রাতের অন্ধকারে সীমান্তে নিয়ে আসা হচ্ছে। তবে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির কড়া নজরদারিতে সেই চেষ্টা নস্যাৎ হয়েছে। সীমান্তবর্তী বাগমারা এলাকার বাসিন্দা বুলবুল ইসলাম বলেন, "ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের যে চেষ্টা চলছে, তা আমরা কোনোভাবেই মেনে নেব না। সীমান্তবাসী হিসাবে আমরাও বিজিবির পাশে থেকে সীমান্ত সুরক্ষায় সহযোগিতা করছি।"

৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, "পুশইনের চেষ্টা আমরা সফলভাবে প্রতিহত করেছি। এই সংকটকালীন সময়ে সীমান্তে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকরা আমাদের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তারা পালাক্রমে বিজিবির সঙ্গে টহল দিচ্ছেন। দেশপ্রেমের এই অনন্য নজিরের জন্য তাদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।"

একই চিত্র দেখা গেছে দিনাজপুরের হিলি সীমান্তেও। সেখানে জয়পুরহাট-২০ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল লতিফুল বারীর নির্দেশনায় শনিবার সকাল থেকে বিজিবির সাথে যৌথভাবে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন গ্রাম পুলিশের সদস্যরা। এর ফলে ৫ জন ভারতীয় নাগরিককে পুশইনের চেষ্টা ভোররাতে ব্যর্থ করে দেওয়া সম্ভব হয়।

বিজিবির অনমনীয় অবস্থানের মুখে লালমনিরহাটের তিন উপজেলার চার সীমান্ত দিয়ে পুশইনে ব্যর্থ হয়ে শিশু ও নারীসহ ৩২ জনকে নিজ দেশে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ। দিনভর সীমান্তের শূন্য রেখার কাছে ফেলে রাখার পর ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের চাপে শুক্রবার রাতে ও শনিবার সকালে তাদের নিয়ে যাওয়া হয়। একইভাবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাংগাবাড়ি সীমান্তে ৩ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা ২৮ জন এবং লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে টানা ২৫ ঘণ্টা চেষ্টার পর ১০ জনকে কাঁটাতারের ভেতরে ফেরত নিয়ে গেছে বিএসএফ।

তবে দেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যান্য সীমান্তে পরিস্থিতি এখনো থমথমে। পঞ্চগড় সীমান্তে জিরো পয়েন্টে ১০ জন ভারতীয় নাগরিক দীর্ঘ ৪০ ঘণ্টা ধরে অবস্থান করছেন, যাদের ফিরিয়ে নিতে সরাসরি নাকচ করেছে বিএসএফ। সবচেয়ে মর্মান্তিক দৃশ্য তৈরি হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে। সেখানে শুক্রবার গভীর রাতে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়া ১ জন অন্তঃসত্ত্বা নারী, ৪ জন শিশুসহ ১১ জন নাগরিক খোলা আকাশের নিচে রোদে পুড়ছেন এবং বৃষ্টিতে ভিজছেন। তীব্র গরমে পিপাসার্ত শিশুরা ভুট্টা ক্ষেতের নোংরা পানি পান করছে, যা সীমান্তে এক চরম মানবিক সংকটের জন্ম দিয়েছে।

সিলেট ও শেরপুরে বিশেষ সতর্কতা ও মাইকিং

সিলেট ব্যাটালিয়নের (৪৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক জানান, গোয়াইনঘাটের উছমাছড়া সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের জোরপূর্বক লোক ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। স্থানীয়দের সহায়তায় সন্দেহভাজন দুই ভারতীয় নাগরিককে আটকের পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাৎক্ষণিকভাবে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া শেরপুর সীমান্তেও শুক্রবার জুমার নামাজের সময় একটি মানব পাচারকারী চক্রের সহায়তায় বড় ধরনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা স্থানীয় জনগণের তৎপরতায় নস্যাৎ করে দেয় বিজিবি। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে দেশের সব সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ যুদ্ধংদেহী সতর্কাবস্থায় রয়েছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.