× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

যমুনা সেতু মহাসড়কে ১৫ কিলোমিটার যানজট, ঈদফেরত মানুষের ভোগান্তি

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:৩৩ পিএম । আপডেটঃ ০৬ জুন ২০২৬, ১৫:৩৫ পিএম

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা অংশে তীব্র যানজটে আটকে পড়া শত শত দূরপাল্লার যানবাহন। ছবি: সংগৃহীত

ঈদের ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের অন্তত ১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। অতিরিক্ত যানবাহনের তীব্র চাপ এবং সেতুর ওপর ও সংযোগ সড়কে দফায় দফায় গাড়ি বিকল হওয়া ও যাতায়াতের সময় ২৪টি ছোট-বড় দুর্ঘটনার ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে হাইওয়ে পুলিশ।

শুক্রবার গভীর রাত থেকে যমুনা সেতুর পূর্ব টোল প্লাজা থেকে এলেঙ্গার নিকটবর্তী পৌলি পর্যন্ত এই অচলাবস্থার কারণে হাজার হাজার কর্মমুখী মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

সরেজমিনে জানা গেছে, উৎসব শেষে রাজধানীমুখী মানুষের ঢল নামায় শুক্রবার সকাল থেকেই যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড় সিরাজগঞ্জ অংশে যানবাহনের প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কের পূর্ব পাড়েও সেই চাপ ছড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে তা স্থবিরতায় রূপ নেয়। তীব্র গরম এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকায় বাসের যাত্রী, নারী ও শিশুরা অবর্ণনীয় কষ্টের মুখোমুখি হয়েছেন।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফ জানান, "অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের পাশাপাশি শুক্রবার রাতে যমুনা সেতুর উপর এবং সেতুর সংযোগ সড়কে একাধিক দূরপাল্লার গাড়ি বিকল হয়ে পড়েছিল। ফলে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে এই দীর্ঘ জটের সৃষ্টি হয়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রেকার দিয়ে বিকল গাড়িগুলো দ্রুত অপসারণ করায় বর্তমানে যান চলাচল ক্রমান্বয়ে স্বাভাবিক হয়ে আসছে।"

মাছ ব্যবসায়ী হামিদ মিয়া বলেন, “ভোর সকাল থেকে টাঙ্গাইলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি, কিন্তু যমুনা সেতু পার হয়েই এখানে আটকে আছি। সিরাজগঞ্জ থেকে টাঙ্গাইলের বাজারে বিক্রির জন্য মাছ নিয়ে এসেছিলাম, সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে সব মাছ নষ্ট হয়ে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়ব।”

পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যানবাহনের তীব্র আধিক্যের কারণে মহাসড়কের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছিল। এর মধ্যে যমুনা সেতুতে মাত্র ২৩ ঘণ্টার ব্যবধানে ছোট-বড় মোট ২৪টি দুর্ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনার কারণে উদ্ধারকারী রেকার ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত যান সরাতে সময় লেগে যায়। কোনো কোনো সময় সেতুর দুই লেন এবং কখনো এক লেন পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সেতুর দুই পাড়ের পুরো ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায়।

গাজীপুরগামী বাস চালক আনোয়ার হোসেন বলেন, “টাঙ্গাইল সীমান্ত থেকেই যানজটের শুরু হয়েছে। এখন মহাসড়কের এলেঙ্গাতে এসে পুরোপুরি আটকে আছি। বাসের ভেতরে গরমে যাত্রীরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন, কখন পৌঁছাতে পারব তা অনিশ্চিত।”

হাইওয়ে পুলিশ ও সেতু কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্ধার তৎপরতায় দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, মহাসড়কের যানজট ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে এবং গতিশীলতা ফিরছে। তবে ঈদ-পরবর্তী ফিরতি ট্রাফিকের চাপ আরও কয়েকদিন বজায় থাকার সম্ভাবনা থাকায়, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে যাতে নতুন করে কোনো অচলাবস্থা তৈরি না হয়।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.