হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজের ৯ নম্বর গেট সংলগ্ন কুরিয়ার অপারেশনস এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিস ও বিমান বাহিনীর ফায়ার ইউনিটের কর্মীদের সতর্ক অবস্থান এবং উদ্ধার তৎপরতা। ছবি: সংগৃহীত
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে শুক্রবার রাতে একটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রাত ১১টা ২৪ মিনিটে কার্গো ভিলেজের ৯ নম্বর গেট সংলগ্ন কুরিয়ার অপারেশনস এলাকায় এই আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী এবং বিমানবন্দরের নিজস্ব ফায়ার ইউনিটের যৌথ ও দ্রুত তৎপরতায় আগুন তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আসায় একটি বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে। এই ঘটনায় বিমানবন্দরের বিমান ওঠানামা বা সার্বিক ফ্লাইট কার্যক্রমে কোনো ধরনের ব্যাঘাত ঘটেনি।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার রাত ১১টা ২৪ মিনিটে কার্গো ভিলেজে আগুন লাগার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করে পরবর্তীতে আরও চারটি ইউনিটকে সেখানে পাঠানো হয়।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা রাশেদ বিন খালিদ বলেন, “আমরা রাত ১১টা ২৪ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাই। খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমাদের দুটি ইউনিট সেখানে গিয়ে কাজ শুরু করে। প্রাথমিক ও সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং আমাদের ইউনিটগুলো সতর্কতার সাথে স্পটে কাজ করছে।”
অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিমানবন্দরের শীর্ষ কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিক তদারকি শুরু করেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ৯ নম্বর গেটের কাছে কুরিয়ার সার্ভিসের কার্যক্রম পরিচালনার স্থানে একটি কন্টেইনারের অভ্যন্তরে এবং এর আশেপাশে প্রথম আগুনের শিখা দেখা যায়।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগীব সামাদ বলেন, “রাত আনুমানিক ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেট সংলগ্ন কুরিয়ার অপারেশনের ওখানে একটি কন্টেইনারের ভেতরে এবং পাশে আগুনের সূত্রপাত হতে দেখা যায়। আগুন লাগার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই আমাদের শাহজালাল বিমানবন্দরের ফায়ার ইউনিট, ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্স এবং বিমান বাহিনীর ঘাঁটি একে খন্দকার থেকে দমকল গাড়ি এসে অত্যন্ত দ্রুততার সাথে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কোনো দৃশ্যমান আগুন নেই। তবে সম্ভাব্য অন্য কোনো গোপন উৎস বা সূত্র থেকে পুনরায় আগুন ছড়াতে পারে কি না, তা নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় বিমানবন্দরের ফ্লাইট ওঠানামায় কোনো প্রকার সমস্যা বা বিলম্ব হয়নি।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগুন পুরোপুরি নিভে গেলেও কন্টেইনারে থাকা মালামালের সুরক্ষায় এবং কোনো ধরনের 'পকেট ফায়ার' (লুকানো আগুন) যেন পুনরায় অবশিষ্টাংশ পুড়িয়ে না ফেলে, সেজন্য ফায়ার ফাইটাররা ডাম্পিংয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ বা আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, এর আগে গত বছরের অক্টোবর মাসে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে একটি অত্যন্ত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় ফায়ার সার্ভিসের রেকর্ডসংখ্যক ৩৭টি ইউনিটকে একটানা ২৭ ঘণ্টা কঠোর পরিশ্রম করে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়েছিল। অতীতের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে এবার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই সর্বোচ্চ সতর্কতা ও ক্ষিপ্রতার সাথে ব্যবস্থা নেয় ফায়ার সার্ভিস ও বিমান বাহিনী, যার ফলে ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা সম্ভব হয়েছে।
বর্তমানে বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক টার্মিনালসহ রানওয়ের সকল কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং গভীর রাতের নির্ধারিত ফ্লাইটগুলো সুনির্দিষ্ট সময়সূচি মেনেই উড্ডয়ন ও অবতরণ করছে। বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ঘটনা তদন্তে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
