প্রতীকী ছবি
গণঅসন্তোষ ও নিম্ন আয়ের মানুষের আর্থিক বোঝার কথা বিবেচনা করে বিদ্যুৎ খাতের দাম বাড়ানোর ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মাথায় তা সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আবাসিক খাতের প্রান্তিক ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য আগের পুরনো দামই পুনর্বহাল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিদ্যুৎ মূল্যের এই সংশোধনী ঘোষণা করা হয়।
বিতরণ সংস্থাগুলোর ঘাটতি পূরণে সরকারকে নতুন করে ভর্তুকির বোঝা কাঁধে নিয়ে এই ঐতিহাসিক ছাড় দিতে হচ্ছে। দেশের মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের সিংহভাগ অংশই সরকারের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ফলে সরাসরি উপকৃত হবেন।
বিইআরসি জানিয়েছে, আবাসিকে প্রান্তিক গ্রাহকদের ‘লাইফলাইন’ (০-৫০ ইউনিট) শ্রেণি এবং প্রথম ধাপের (৭৫ ইউনিট পর্যন্ত) ব্যবহারকারীদের জন্য বর্ধিত মূল্য বাতিল করতে বিতরণ সংস্থাগুলো যৌথ আবেদন জানায়। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে কমিশন সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিইআরসি জানায়, "আবাসিকে প্রান্তিক ও প্রথম ধাপের গ্রাহকদের জন্য নতুন দাম কার্যকর না করে আগের দাম বহাল রাখা হলো। এই সংশোধনীর ফলে জাতীয়ভাবে বিদ্যুতের খুচরা গড় দাম ১০ টাকা ৬৩ পয়সা থেকে কমে ১০ টাকা ৪০ পয়সায় নেমে এসেছে।"
সাধারণত একটি বা দুটি ফ্যান ও বাতি ব্যবহার করা দেশের মোট বিদ্যুৎ গ্রাহকের ৬৫ শতাংশই এই দুই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। আবাসিক খাতের সবচেয়ে কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে রেহাই দিতেই এই পদক্ষেপ।
এর আগে গত বুধবার বিইআরসির দেওয়া আদেশে ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৬৯ পয়সা বাড়িয়ে ৫ টাকা ৩২ পয়সা করা হয়েছিল। এতে একেকটি দরিদ্র পরিবারের মাসিক বিল বাড়ত প্রায় সাড়ে ৩৪ টাকা।
অন্যদিকে, ০-৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীদের জন্য ইউনিটপ্রতি মূল্য ৯২ পয়সা বাড়িয়ে ৬ টাকা ১৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল, যার ফলে মাসে বাড়তি ৬৯ টাকা বিল পরিশোধ করতে হতো। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে সেই আদেশ বাতিল হওয়ায় প্রান্তিক গ্রাহকদের প্রতি ইউনিট যথাক্রমে আগের ৪ টাকা ৬৩ পয়সা ও ৫ টাকা ২৬ পয়সায় অপরিবর্তিত থাকছে।
দাম বৃদ্ধির এই আকস্মিক প্রত্যাহারের ফলে সাধারণ গ্রাহক স্বস্তি পেলেও বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর আর্থিক ঘাটতি বাড়বে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলার সংকটের এই সময়ে দাম না বাড়ালে বিতরণ সংস্থাগুলোর যে ক্ষতি হবে, তা সমন্বয় করতে এখন রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অতিরিক্ত ভর্তুকি দিতে হবে। ফলে আসন্ন বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকির চাপ আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলো।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
