আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত দিল্লির সেই বহুতল ভবনের নিচতলায় রেস্তোরাঁ ও ওপরে হোটেল ছিল। ছবি: সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মালভিয়া নগর এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গুরুতর আহত মো. নুরুল আমিন (৪৪) নামের এক বাংলাদেশি নাগরিক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। গত বুধবারের এই বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নুরুল আমিনের মৃত্যুর পর মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২ জনে। নিহতদের মধ্যে ৯ জন ভারতীয় নাগরিক ছাড়াও মোজাম্বিক, লাইবেরিয়া, নাইজেরিয়া ও উজবেকিস্তানের নাগরিক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক বিবৃতির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ হাইকমিশন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বুধবার দক্ষিণ নয়াদিল্লির মালভিয়া নগরের একটি বহুতল ভবনে আকস্মিক আগুন লাগে, যার নিচতলায় একটি রেস্তোরাঁ এবং ওপরের তলাগুলোতে হোটেল ছিল। এই অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত ২৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আরও সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক দিল্লির বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। মূলত চিকিৎসার উদ্দেশ্যেই দুটি বাংলাদেশি পরিবার দিল্লিতে গিয়ে ওই হোটেলটিতে অবস্থান করছিল।
বাংলাদেশ হাইকমিশন এক বিবৃতিতে নুরুল আমিনের মৃত্যুর খবর দিয়ে জানিয়েছে, "নয়াদিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় চিকিৎসাধীন এক বাংলাদেশি নাগরিক মারা গেছেন। আগুনে বিশেষভাবে দুটি বাংলাদেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিহত বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সহজতর করতে আমরা ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছি।"
এদিকে, দিল্লির হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন বাকি বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। হাইকমিশনের কর্মকর্তারা আহতদের শারীরিক অবস্থার সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন এবং চিকিৎসকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছেন।
নয়াদিল্লি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বহুতল ভবনটির নিচতলার রেস্তোরাঁ থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং তা দ্রুত ওপরের আবাসিক হোটেলে ছড়িয়ে পড়ে। সংকীর্ণ প্রবেশপথ ও অপর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার কারণে ভবনটির ভেতরে থাকা আন্তর্জাতিক অতিথিরা দ্রুত বের হতে পারেননি, যা প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ার অন্যতম কারণ।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ভারতের পর্যটন ও চিকিৎসা ভিসায় আসা বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। নয়াদিল্লি কর্তৃপক্ষ আগামী দিনগুলোতে বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবনগুলোর অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের আন্তর্জাতিক ট্র্যাজেডি এড়ানো সম্ভব হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
