× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর রেড টেলিফোনের তার চুরি

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

০৪ জুন ২০২৬, ০৪:২৬ এএম । আপডেটঃ ০৪ জুন ২০২৬, ০৪:২৬ এএম

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অতি-সংবেদনশীল ‘রেড টেলিফোন’ সংযোগ সাত ঘণ্টা বিচ্ছিন্ন ছিল।

বাংলাদেশ সবচেয়ে সুরক্ষিত প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অত্যন্ত সংবেদনশীল 'রেড টেলিফোন'-এর তার চুরির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) একটি বিশেষজ্ঞ দল টানা সাত ঘণ্টার জরুরি প্রচেষ্টায় সংযোগটি পুনরায় সচল করতে সক্ষম হয়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এই অতি-সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থায় এমন নজিরবিহীন বিভ্রাট ও নিরাপত্তা লঙ্ঘন প্রশাসনের অভ্যন্তরে তীব্র অসন্তোষ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

ঈদুল আজহার টানা ছুটি শেষে গত সোমবার (১ জুন) সচিবালয় খোলার পর এই সংযোগ বিচ্ছিন্নতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সোমবার সকাল ৮টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে তার কার্যালয় তদারকির সময় রেড টেলিফোনটি সম্পূর্ণ অকার্যকর বা 'টিউনিংহীন' পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিটিসিএল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়।

বিটিসিএলের কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন বলেন, "সকাল ৮টার দিকে আমাদের বিষয়টি জানানো হয়। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে টেলিফোন সেটসহ এর কারিগরি দিকগুলো পরীক্ষা করে কাজ শুরু করি। দীর্ঘ সাত ঘণ্টার নিবিড় চেষ্টার পর বেলা ৩টার দিকে সংযোগটি পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হয়েছে।"

বিটিসিএলের ফোন-৩ শাখার ব্যবস্থাপক নাজিম হায়দার কর্তৃক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক জরুরি চিঠিতে ঘটনার ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। চিঠির বিবরণ অনুযায়ী, সচিবালয়ের পুরাতন ২ নম্বর ভবন থেকে নতুন ১ নম্বর ভবন পর্যন্ত বিস্তৃত টেলিযোগাযোগের অত্যন্ত মূল্যবান কপার ক্যাবলগুলো ভবনের ছাদ ও সংযোগ লাইনের বিভিন্ন স্থান থেকে কাটা এবং বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। কিছু কিছু জায়গায় কোনো তারের অস্তিত্বই ছিল না।

এর ফলে কেবল সাধারণ টেলিফোনই নয়, বরং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল দপ্তরের রেড টেলিফোন সংযোগগুলো পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। চিঠিতে বলা হয়, এর ফলে সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক যোগাযোগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে।


"ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে জড়িতদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং অবিলম্বে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।"
— নাজিম হায়দার, ব্যবস্থাপক (ফোন-৩ শাখা), বিটিসিএল


ভেতর-বাইরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সাথে নিরাপদ ও সুসংহত যোগাযোগের জন্য এই রেড টেলিফোন ব্যবহৃত হয়, যা সম্পূর্ণ ক্রস-কানেকশন মুক্ত। ফলে এই তার চুরির ঘটনাকে কোনো সাধারণ চুরি হিসেবে দেখছেন না নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।

সচিবালয়ের অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত উপবিভাগ-২-এর উপসহকারী প্রকৌশলী এসএম ফিরোজ জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সচিবালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পর্যাপ্ত উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করে একাধিকবার চিঠিও দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, দেশের শীর্ষ সুরক্ষিত স্থাপনায় দর্শনার্থী ও সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত, কেনাকাটা ও ঘোরাঘুরি নিত্যদিনের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির পর বর্তমানেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃশ্যমান কোনো গুণগত পরিবর্তন হয়নি।

এই নজিরবিহীন ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা শাখার কর্মকর্তারা এই ঘটনাকে 'অস্বাভাবিক' ও 'সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ' হিসেবে বিবেচনা করছেন। ঘটনাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) সহ সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থাকে একযোগে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

তবে এই বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মুখপাত্র উপকমিশনার এনএম নাসিরুদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঘটনার নেপথ্যে কোনো অভ্যন্তরীণ অবহেলা নাকি পরিকল্পিত নাশকতা রয়েছে, তা উদঘাটনে জোর তৎপরতা চলছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.