যুগ্ম সচিব আনিসুর রহমানকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। । ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে একাকী ঘরে অবহেলায় পড়ে থাকা বৃদ্ধা মা নূরজাহান বেগমের গলিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক সামাজিক সমালোচনার মুখে তাঁর বড় ছেলে সরকারের যুগ্ম সচিব আনিসুর রহমানকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। একই ঘটনায় মৃত নারীর চার প্রতিষ্ঠিত সন্তানের অবহেলাকে ‘আইনে অবহেলাজনিত মৃত্যু’ উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে এবং পাঠানো হয়েছে আইনি নোটিশ।
আজ বুধবার সন্ধ্যায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) হিসেবে কর্মরত এই কর্মকর্তাকে ওএসডি করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
সন্তানরা সুপ্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও বৃদ্ধা মায়ের এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আজ বুধবার সন্ধ্যায় জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী সাংবাদিকদের জানান, যুগ্ম সচিব ছেলের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় আনিসুর রহমানকে ওএসডি করার প্রজ্ঞাপন জারি করে এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাঁকে বদলি কর্মস্থলে যোগ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
গত রবিবার রাতে পল্লবী ৬ নম্বর সেকশনের একটি বহুতল ভবনের চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে ৬৫ বছর বয়সী নূরজাহান বেগমের গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মর্মান্তিক বিষয় হলো, ওই ফ্ল্যাটেরই পাশের কক্ষে তাঁর স্কুলশিক্ষক মেয়ে বসবাস করলেও তিনি মায়ের মৃত্যুর কোনো খবর পুলিশ বা স্বজনদের জানাননি।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির বলেন, "লাশটি দেখে মনে হয়েছে তিনি ৩-৪ দিন আগে মারা গেছেন। শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে পড়ছিল। ফ্ল্যাটের ভেতরের অবস্থা ছিল চরম অস্বাস্থ্যকর, আবর্জনায় ভরা আর দুর্গন্ধময়।"
নূরজাহান বেগমের চার সন্তানের প্রত্যেকেই সমাজে উচ্চ প্রতিষ্ঠিত। বড় ছেলে সরকারের যুগ্ম সচিব, মেজ ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক, ছোট ছেলে কানাডাপ্রবাসী এবং একমাত্র মেয়ে স্থানীয় একটি স্কুলের শিক্ষক।
মায়ের প্রতি এমন চরম দায়িত্বহীনতার কারণে আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি ওই চার সন্তানকে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়ে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন।
আজ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করেন। আবেদনে সন্তানদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি ৬৫ বছরের বেশি বয়সী নাগরিকদের সুরক্ষায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে ‘কেয়ারগিভার’ নিয়োগের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, "প্রতিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও সন্তানরা মায়ের চিকিৎসা ও যত্নে চরম অবহেলা করেছেন, যা আইনে অবহেলাজনিত মৃত্যু ঘটানোর শামিল। ওই বৃদ্ধাকে পর্যাপ্ত খাবার ও ওষুধ না দিয়ে বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে আটকে রাখা হয়ে থাকতে পারে, যা সংবিধান ও মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।"
নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর এই ঘটনাটি দেশের প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক ও পারিবারিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্ন তুলেছে। তীব্র অবহেলার শিকার হয়ে এক মায়ের এমন বিদায় এবং প্রশাসনের দ্রুত অ্যাকশন দেশজুড়ে বাবা-মার ভরণপোষণ আইনের কঠোর প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করে তুলেছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
