× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

দেশে পেট্রল-অকটেন-কেরোসিনের দাম আরও বাড়ল, আগের দামেই ডিজেল

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

০১ জুন ২০২৬, ০৩:৪১ এএম । আপডেটঃ ০১ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ এএম

জ্বালানি তেল। ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের জেরে বিশ্ববাজারে অব্যাহত মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে দেশের বাজারে জুন মাসের জন্য তিন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। রোববার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক প্রজ্ঞাপনে এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে, যা আজ রাত ১২টা থেকে সারা দেশে কার্যকর হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত থাকলেও পেট্রল, অকটেন ও কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি আরও ৫ টাকা করে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে।

সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনের প্রধান জ্বালানি ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১১৫ টাকায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে নিম্নবিত্তের ব্যবহৃত কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত ও গণপরিবহনে ব্যবহৃত পেট্রলের দাম লিটারপ্রতি ১৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা এবং অকটেনের দাম ১৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের মার্চ থেকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি চালু রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় আগের মাসে আমদানি করা তেলের প্রকৃত খরচ বিবেচনা করে প্রতি মাসে নতুন দাম সমন্বয় করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে। বিশ্ববাজারে দাম লাফিয়ে বাড়ায় গত এপ্রিলের মাঝামাঝিও দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ স্তরে দাম বাড়ানো হয়েছিল, যা মে মাসে অপরিবর্তিত থাকার পর জুনে এসে ফের বাড়ল।

মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, "উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। তবে নির্বাহী আদেশে ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম সরাসরি নির্ধারণ করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীলতার কারণেই এই দাম সমন্বয় করতে হয়েছে।"

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর ২০২২ সালের আগস্টে দেশে একলাফে ডিজেলের দাম সাড়ে ৪২ শতাংশ বাড়িয়ে ১১৪ টাকা করা হয়েছিল, যা ছিল তৎকালীন সর্বোচ্চ রেকর্ড। তবে চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে গত এপ্রিলের ১৯ তারিখ থেকে কার্যকর হওয়া মূল্যের পর এই দফার বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলল। এপ্রিলের শুরুতে সরবরাহ সংকটের আতঙ্কে দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেলেও ২০ এপ্রিল থেকে সরবরাহ বাড়িয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা সরকারের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও পেট্রল ও অকটেনের এই দফায় মূল্যবৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। বিশেষ করে মধ্যবিত্তের যাতায়াত খরচ বাড়ার পাশাপাশি কেরোসিনের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামীণ জনপদে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.