× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ভারতে ধরপাকড়

সীমান্তে পুশ-ইনের চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি, ওপারে আটক শিবিরে কয়েকশ 'বাংলাদেশি'

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

৩১ মে ২০২৬, ০০:৪৮ এএম । আপডেটঃ ৩১ মে ২০২৬, ০০:৫৩ এএম

বাংলাদেশে ফেরার জন্য ভারতের সীমান্তে ভীড় করছেন অনেকে।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন সাতক্ষীরার হাকিমপুর সীমান্তে কথিত 'বাংলাদেশি' পরিচয়ে কয়েকশ মানুষকে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) জড়ো করলেও, বাংলাদেশে তাঁদের পুশ-ইনের (জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়া) চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অনুপ্রবেশকারী খেদাও ঘোষণার পর সপ্তাহখানেক ধরে ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তে এই উত্তেজনা চলছে, যেখানে আটককৃতদের নথিপত্র যাচাই করে ভারতীয় পুলিশ স্বরূপনগরের 'হোল্ডিং সেন্টার' বা আটক শিবিরে পাঠাচ্ছে। ওপারে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হলেও বাংলাদেশ অংশে বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকায় সীমান্ত পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই সীমান্তজুড়ে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি হয়েছে। ভারতের হাকিমপুর সীমান্তের ওপারে বেশ কিছু পরিত্যক্ত ঘরে কথিত অবৈধ বাংলাদেশিদের জড়ো করে নাম, ছবি ও আদি বাসস্থানের তথ্য সংগ্রহ করছে স্থানীয় প্রশাসন। তবে বাংলাদেশ সীমান্ত পার হয়ে শত শত মানুষের প্রবেশের দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও বিজিবি।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, "এই সীমান্ত দিয়ে পুশ-ইন তো হয়ই নাই, এটা হওয়ার কোনো সুযোগও নাই। আমাদের কাছে যদি কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হতো, তবে সেটি একটি আইনি প্রক্রিয়া। গোপনে গোপনে হওয়ার মতো কিছু নেই। আমরা কঠোরভাবে ওদের যেকোনো ধরনের চেষ্টা প্রতিহত করছি।"

চলতি মাসের শুরুর দিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছে, রাজ্যে কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে থাকতে দেওয়া হবে না এবং তাঁদের শনাক্ত করে দ্রুত ফেরত পাঠানো হবে। এই ঘোষণার পরপরই ভারতীয় সীমান্ত এলাকায় ধরপাকড় ও আতঙ্ক শুরু হয়। সীমান্তে জড়ো হওয়া কিছু মানুষ স্বীকার করেছেন যে, তাঁরা অতীতে 'চোরাই পথে' ভারতে গিয়ে শ্রমিকের কাজ করছিলেন। তবে আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করে রাতের অন্ধকারে তাঁদের পুশ-ইনের চেষ্টা করা হলে গত ২৬ মে বিজিবির কঠোর বাধায় তা নস্যাৎ হয়ে যায়।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ বলেন, ‌‌"ওপার থেকে পুশ-ইনের একটা চেষ্টা হয়েছিল, তবে তা সফল হয়নি। বাংলাদেশ প্রান্তে বিজিবি অত্যন্ত সতর্ক আছে। অনুপ্রবেশকারী বা বাংলাদেশি পরিচয়ে কাউকে আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে—এই তথ্য সম্পূর্ণ সঠিক নয়।"

সাতক্ষীরার পাশাপাশি যশোর, ঝিনাইদহ, রাজশাহী ও চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন এবং পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্ত এলাকার পরিবেশ এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে। চুয়াডাঙ্গা ও যশোরের পুলিশ সুপাররা নিশ্চিত করেছেন যে জোরপূর্বক বা আনুষ্ঠানিকভাবে কাউকে সীমান্ত পার করার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে ঝিনাইদহ সীমান্তে অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টার সময় গত বুধবার দুই নারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে বিজিবি। কলারোয়ার কেড়াগাছি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আফজাল হোসেন হাবিল জানান, ওপারে মানুষ জড়ো করার খবর ছড়ালেও এপারে স্থানীয়দের মধ্যে কোনো উত্তেজনা নেই।

সম্প্রতি দুই দেশের সীমান্তে হত্যা এবং সিলেটের সোনারহাটে বিএসএফ-বিজিবি পাল্টাপাল্টি গুলিবর্ষণের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এই নতুন পুশ-ইনের প্রচেষ্টা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ও সীমান্ত কূটনীতিতে নতুন করে অস্বস্তি ও উত্তেজনা তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা 

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.