একই বড় পশুতে ভাগের ভিত্তিতে কোরবানি ও আকিকা আদায়ের বিধান রয়েছে ইসলামে। ফাইল ছবি
পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের মুসলিম সমাজে প্রতি বছরই একটি প্রশ্ন বেশ জোরালো হয়ে ওঠে—কোরবানির পশুর সঙ্গে সন্তানের আকিকা দেওয়া যাবে কি না। বিশেষ করে যারা আর্থিক অসচ্ছলতা বা অন্য কোনো জটিলতার কারণে সন্তান জন্মের পর নির্ধারিত সময়ে আকিকা করতে পারেননি, তারা কোরবানির বড় পশুর (গরু বা মহিষ) অংশীদার হয়ে এই সুন্নাহ আদায় করতে চান। ইসলামি আইনবিদ ও গবেষকদের মতে, ইসলামের ভিন্ন ভিন্ন মাজহাবে এ নিয়ে কিছুটা মতপার্থক্য ও ভিন্ন ব্যাখ্যা থাকলেও, নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত মেনে একই পশুতে কোরবানি ও আকিকা একসঙ্গে আদায় করা সম্পূর্ণ বৈধ এবং জায়েজ।
ইসলামি পরিভাষায় ‘আকিকা’ হলো নবজাতকের জন্মের পর আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, তার কল্যাণ কামনা এবং নামকরণের সঙ্গে যুক্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ আমল। ইসলামের নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিজের দুই নাতি হযরত হাসান ও হযরত হুসাইনের জন্মের পর আকিকা দিয়েছিলেন।
-6a156ee0eb3d9.jpg)
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, সন্তান জন্মের সপ্তম দিনে আকিকা করা, নাম রাখা এবং মাথা মুণ্ডন করে চুলের ওজনের সমপরিমাণ সোনা বা রুপা সদকা করা উত্তম। তবে সপ্তম দিনে সম্ভব না হলে ১৪ বা ২১তম দিনে, কিংবা পরবর্তী সময়ে মা-বাবার আর্থিক সচ্ছলতা ফিরে এলে যেকোনো বয়সেও সন্তানের আকিকা আদায় করা যায়।
কোরবানির সঙ্গে একই পশুতে আকিকা দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন মাজহাবের ফকিহদের মধ্যে কিছুটা তাত্ত্বিক ভিন্নতা রয়েছে, কোনো কোনো মতবাদে এটিকে নিরুৎসাহিত করা হলেও হানাফি মাজহাবসহ অধিকাংশ পণ্ডিতের মতে এটি অনুমোদিত। মূলত যেসব বড় পশুতে (গরু, মহিষ, উট) সাতটি পর্যন্ত ভাগ বা অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেখানে কোরবানির ভাগের পাশাপাশি আকিকার নিয়তে ভাগ যুক্ত করা যায়।
বিশিষ্ট ইসলামি লেখক ও বিশ্লেষক মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ বলেন, "ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী আকিকা একটি সুন্নত আর কোরবানি ওয়াজিব। সচ্ছলতার অভাবে কেউ যদি নির্দিষ্ট সময়ে তার সন্তানের আকিকা করতে না পারে, তাহলে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে কোরবানির সময়ও আকিকা করতে পারেন।"
ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী, ছেলে সন্তানের জন্য দুটি এবং মেয়ে সন্তানের জন্য একটি ছাগল, ভেড়া বা দুম্বা জবাই করার নির্দেশ রয়েছে এবং আকিকার জন্য ছাগল ব্যবহার করাই সবচেয়ে উত্তম। তবে কোরবানির গরুর ক্ষেত্রে ছেলের জন্য দুই ভাগ এবং মেয়ের জন্য এক ভাগ নির্ধারণ করে আকিকা দেওয়া সম্ভব। আকিকার পশুর যোগ্যতাও কোরবানির পশুর মতোই সুস্থ, প্রাপ্তবয়স্ক ও ত্রুটিমুক্ত হতে হবে।
আকিকার মাংস বণ্টনের ক্ষেত্রে কোনো কঠোর ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা নেই। কোরবানির মাংসের মতোই এই পশুর মাংসও সন্তান ও তার মা-বাবাসহ পরিবারের সব সদস্য, আত্মীয়-স্বজন এবং দরিদ্র মানুষেরা সাধারণ নিয়মেই খেতে ও বণ্টন করতে পারবেন।
কোরবানির হাটে পশুর চড়া দাম এবং মধ্যবিত্তের আর্থিক সামর্থ্যের কথা বিবেচনা করে আলেম ও গবেষকেরা এই সমন্বিত আমলের পক্ষে মত দিলেও একটি বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাদের মতে, ঈদুল আজহার দিন যদি কেউ কোরবানি না দিয়ে শুধু আকিকা করেন, তবে তা অনুচিত হবে। কারণ সামর্থ্যবানের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব, আর আকিকা সুন্নাহ।
মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ আরও বলেন, "যদি কেউ গরুতে এক ভাগ কোরবানির জন্য দিলেন, আর একটি ছাগল আলাদাভাবে আকিকা করলেন—এটি সবচেয়ে উত্তম। আবার কেউ চাইলে তার সামর্থ্য অনুযায়ী গরুর এক ভাগ আকিকা ও আরেক ভাগ কোরবানি হিসেবেও দিতে পারেন।"
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
