বাংলাদেশে শিশু সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। ছবি: ইউনিসেফ ওয়েবসাইট
বাংলাদেশে সম্প্রতি শিশু ও নারীদের ওপর নির্মম যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। সংস্থাটি এই বর্বরতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে অপরাধীদের ‘পার পেয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি’ বা দায়মুক্তির অবসান দাবি করেছে। শুক্রবার (২২ মে) এক বিবৃতিতে বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন এবং দেশব্যাপী শিশু ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা (জিবিভি) প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে চার বছরের শিশু ধর্ষণ এবং চট্টগ্রামে ধর্ষণের পর হত্যার মতো নৃশংস ঘটনার প্রেক্ষাপটে ইউনিসেফের এই আনুষ্ঠানিক বিবৃতিটি এলো। সংস্থাটি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেছে, যে জায়গাগুলোতে শিশুদের সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা ছিল, সেখানেই তারা চরম সহিংসতার শিকার হচ্ছে।
বিবৃতিতে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, “শিশুদের ওপর বর্বরতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে! সম্প্রতি বাংলাদেশে শিশুদের ওপর ঘটে যাওয়া নির্মম সহিংসতার খবরে ইউনিসেফ গভীরভাবে মর্মাহত ও স্তম্ভিত।”
চলতি বছর বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের ওপর নির্মমতা ও যৌন সহিংসতার হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউনিসেফ মনে করে, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের প্রতিরোধ ব্যবস্থা, অভিযোগ দায়ের প্রক্রিয়া, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা, শিশুবান্ধব পুলিশিং ও বিচারব্যবস্থার বিদ্যমান ঘাটতিগুলো দ্রুত দূর করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে স্কুল, মাদ্রাসা, কর্মক্ষেত্র এবং শিশুযত্ন কেন্দ্রগুলোতে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের জন্য মানসিক সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। সামাজিক নীরবতা এই সহিংসতাকে আরও উসকে দেয় উল্লেখ করে সবাইকে যেকোনো নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুখ খোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সহিংসতার শিকার শিশু ও নারীদের ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার প্রবণতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ সংস্থাটি। একে 'নতুন ধরনের নির্যাতন' হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলা হয়েছে, এতে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের মানসিক কষ্ট আরও বেড়ে যায়।
বিবৃতিতে সর্বসাধারণ ও গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়েছে,“ভুক্তভোগীদের ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। এর বদলে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা ও নিরাপত্তা জোরদার করার দাবিতে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে।”
নির্যাতনের শিকার শিশুদের তাৎক্ষণিক সহায়তা ও সুরক্ষার জন্য জাতীয় ‘চাইল্ড হেল্পলাইন ১০৯৮’-এ যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়েছে ইউনিসেফ। প্রতিটি শিশুরই ঘরে, বাইরে এবং গণমাধ্যমে সুরক্ষিত থাকার পূর্ণ অধিকার রয়েছে বলে বিবৃতিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
