রাজধানীর পল্লবীতে নৃশংসভাবে খুন হওয়া শিশু রামিসা আক্তারের স্বজনদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাজধানীর পল্লবীতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে তাদের বাসায় গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিসভার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে তিনি মিরপুরের পল্লবী এলাকায় রামিসার বাবা-মায়ের কাছে পৌঁছান এবং তাদের গভীর সমবেদনা জানান। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে গত মঙ্গলবার সকালে পাশের ফ্ল্যাটের এক ভাড়াটিয়া নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে অত্যন্ত বর্বরোচিতভাবে হত্যা করে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আকস্মিক এই আগমন শোকে ভেঙে পড়া পরিবারটিকে কিছুটা হলেও সান্ত্বনা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রামিসার স্বজনদের জড়িয়ে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং এই জঘন্যতম অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি দেন।
তারেক রহমান রামিসার পিতাকে বলেন, "এই অবুঝ শিশুর ওপর যে চরম নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তা কোনো সুস্থ মানুষ করতে পারে না। আমি আপনাদের আশ্বস্ত করছি, এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। কোনো অপরাধীই ছাড় পাবে না।"
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকালে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তার নিজ বাসা থেকে বের হওয়ার পর পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সন্দেহভাজন সোহেল রানা তাকে ফুসলিয়ে নিজের কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর সেখানে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।
পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে সোহেল রানার ঘরের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং বাথরুমের একটি বালতির ভেতর থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং অভিযুক্তের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করেন। তবে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা ঘরের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
ঘটনার পর পরই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে ঘটনার দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
আইনজীবীদের মতে, এই ধরনের স্পর্শকাতর ও নৃশংস মামলার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নজরদারি এবং দ্রুততম সময়ে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করা সম্ভব হলে বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। অন্যদিকে, ঢাকার জনাকীর্ণ আবাসিক এলাকাগুলোতে ভাড়াটিয়াদের পরিচিতি যাচাই এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে নতুন করে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
