কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় থাকলেও দাম ও বাজেট নিয়ে দুই পক্ষেই বিরাজ করছে অস্থিরতা।
টানা কয়েক বছরের উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও গো-খাদ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির জেরে দেশে ধারাবাহিকভাবে কমছে গরু কোরবানির সংখ্যা। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কোভিড-পূর্ববর্তী ২০১৯ সালের তুলনায় গত ২০২৫ সালে দেশে ১০ লাখেরও বেশি কম গরু কোরবানি হয়েছে। অর্থনৈতিক টানাপোড়েনে মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পাওয়া এবং খামারিদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়াই এর মূল কারণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ২০১৭ সালে দেশে ৪৪ লাখ ৭৩ হাজার গরু কোরবানি হয়েছিল, যা ২০১৯ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৫৬ লাখ ৫৯ হাজারে। তবে ২০২০ সালে করোনা মহামারি শুরুর পর থেকে এই সংখ্যায় বড় ধস নামে এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালে তা ৪৬ লাখ ৫০ হাজারে নেমে আসে। প্রাক-কোভিড সময়ের চেয়ে এই ঘাটতি প্রায় ১০ লাখ ৯ হাজার, যা দেশের সামগ্রিক পশুপালন খাত ও উৎসবকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের স্থবিরতার আভাস দিচ্ছে।
বাস্তবতার চিত্র ফুটে ওঠে মাঠপর্যায়ের খামারিদের কথায়। মানিকগঞ্জের কৃষক শেখ ফরিদ ক্ষোভের সঙ্গে জানান, লোকসানের কারণে তিনি খামার ছোট করে এনেছেন। তিনি বলেন, "এইবার গরু কিনছি ব্যাংকের লোন (ঋণ) নিয়া। তিন মণ ওজনের গরুটার পেছনে খরচই আছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা, অথচ মাইনষে দাম কয় এক লাখ টাকা। এইবার দাম না পাইলে খামার আর রাখুম না।"
শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতির অধ্যাপক রিপন কুমার মণ্ডল এই নেতিবাচক প্রবণতার পেছনে মূলত তিনটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। তিনি বলেন, "কোভিড-পরবর্তী অর্থনৈতিক দুর্বলতা ও ৯ শতাংশের ওপর থাকা মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। ফলে অনেকে এক লাখ টাকা দিয়ে গরু না কিনে আট-দশ হাজার টাকায় ছাগল বা ভেড়া কোরবানি দিচ্ছেন। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় গরুর দামও খামারিদের বাড়াতে হচ্ছে।"
তবে পশুর এই ধারাবাহিক ঘাটতির বিপরীতে সরকার বলছে দেশে পর্যাপ্ত গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, চলতি বছর দেশে ১ কোটি ২৩ লাখ কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে, যার বিপরীতে কোরবানি হতে পারে ১ কোটি ১ লাখ। ফলে প্রায় সোয়া ২২ লাখ পশু উদ্বৃত্ত থাকবে, যার মধ্যে শুধু গরু-মহিষই রয়েছে ৫৭ লাখ।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (খামার) মো. শরীফুল হক বলেন, "ঈদে বিক্রি না হলেও খামারিদের লোকসানের সুযোগ নেই, কারণ দেশে মাংসের চাহিদা সারাবছরই থাকে।" তবে খামারিদের দাবি, সাধারণ মাংসের বাজারে কোরবানির উদ্দেশ্যে পালিত গরুর ন্যায্য দাম ও লালন-পালনের চড়া ব্যয় উসুল করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
