রাজধানীর রামপুরার বনশ্রীতে ১০ বছর বয়সী এক মাদ্রাসা ছাত্রকে বলাৎকার ও আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে মোঃ শিহাব হোসেন (১৯) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে পাবনার বেড়া থানার খাকছাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে ডিএমপির রামপুরা থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন উর রশিদ।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সূত্রপাত ১৯ মে রাতে। রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী সি-ব্লকের 'আলোকিত কুরআন ইন্টারন্যাশনাল হিফজ মাদ্রাসা' থেকে ১০ বছর বয়সী ছাত্র মোঃ আব্দুল্লাহর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় পুলিশ কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়।
পুলিশ আরও জানায়, সুরতহালকালে শিশুটির পায়ুপথে অস্বাভাবিক যৌন নির্যাতনের আলামত পাওয়া যায়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের মুখে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে যে, গ্রেপ্তারকৃত শিহাব হোসেন মাদ্রাসার আরও অন্তত চারজন ছাত্রের সঙ্গে অস্বাভাবিক যৌনাচারে লিপ্ত ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক এই তথ্যের ভিত্তিতেই ১৯ মে রামপুরা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শিহাবের বিরুদ্ধে প্রথম মামলাটি দায়ের করা হয়। তবে ঘটনার পরপরই শিহাব মাদ্রাসা ত্যাগ করে তার গ্রামের বাড়ি পাবনায় পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, পরদিন ২০ মে, নিহত আব্দুল্লাহর মা মোছাঃ টুকু আরা খাতুন বাদী হয়ে শিহাব ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে রামপুরা থানায় দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেন। এতে বলা হয়, শিহাবের অমানবিক নির্যাতনের কারণেই আব্দুল্লাহ আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছে।
এই মামলার প্রেক্ষিতে রামপুরা থানার একটি দল অভিযান চালিয়ে গত রাতে পাবনার বেড়া থানার খাকছাড়া গ্রাম থেকে আসামী শিহাবকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ বিষয়ে ডিসি মোহাম্মদ হারুন উর রশিদ ন্যাশনাল ট্রিবিউনকে বলেন, “মাদ্রাসার অন্য কোনো ব্যক্তি এই ঘটনার সাথে জড়িত কি না বা বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার কোনো চেষ্টা ছিল কি না, তা বিস্তারিত তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
এ ঘটনার পর থেকে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা ও আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। মামলার তদন্ত সম্পন্ন হলে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের সম্পূর্ণ তালিকা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।