মুগদার প্রবাসী মোকাররম হত্যা মামলার প্রধান আসামি তাসলিমা বেগম (মাঝে) গ্রেপ্তার। ছবি: মতিঝিল ডিসি সৌজন্যে
রাজধানীর মুগদায় সৌদি প্রবাসী মোকাররম মিয়াকে (৩৮) নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ টুকরো টুকরো করে গুম করার ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান পলাতক আসামি তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনা (৩১) গ্রেপ্তার হয়েছে। বুধবার (২০ মে) সকালে নরসিংদী জেলার শিবপুর থানার জয়নগর এলাকায় বোন শিল্পী আক্তারের বাড়ি থেকে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মুগদা থানা ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের একটি দল এই অভিযান পরিচালনা করে। পরকীয়া সম্পর্কের জেরে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়া এবং বিয়ের চাপ দেওয়ায় এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের তদন্ত এবং আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে জানা গেছে, গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন মোকাররম। তিনি গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় না গিয়ে পরকীয়া সম্পর্কের সূত্রে সরাসরি মুগদার মান্ডা ১ম গলির আব্দুল করিম রোডের একটি বাসায় তার প্রেমিকা তাসলিমার বড় বোন হেলেনা বেগমের ভাড়া বাসায় ওঠেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে অবস্থানকালীন গত ১৪ মে দুপুরে মোকাররম প্রেমিকা তাসলিমার কাছে ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া মোট ৫ লাখ টাকা ফেরত চান এবং তাসলিমাকে তার স্বামী সুমনকে ছেড়ে তাকে বিয়ে করার প্রস্তাব দেন। তাসলিমা টাকা ফেরত দিতে অপারগতা প্রকাশ করে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে উভয়ের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়ার সৃষ্টি হয়।
পুলিশ জানায়, বিবাদের একপর্যায়ে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাসলিমা মোকাররমকে পানির সাথে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন। এরপর তাসলিমা, তার বোন হেলেনা এবং ভাগনি হালিমা আক্তারের সহায়তায় ধারালো বটি ও হাতুড়ি দিয়ে মোকাররমের মাথায়, ঘাড়ে ও গলায় আঘাত করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যাকাণ্ড আড়াল করতে এবং লাশ গুমের উদ্দেশ্যে তারা মরদেহ বাথরুমে নিয়ে ধারালো চাকু দিয়ে মাথা, হাত ও পা বিচ্ছিন্ন করে রক্ত ধুয়ে ফেলে। পরে খণ্ডিত অংশগুলো ৭টি কালো পলিথিনে মুড়িয়ে মানিকনগর বালুর মাঠ ও মান্ডার একটি ভবনের নিচের আবর্জনার স্তূপে ফেলে আসে। অপরাধ শেষে প্রধান আসামি তাসলিমা ভিকটিমের ল্যাগেজ ও তার ৪ বছরের শিশুকে নিয়ে নরসিংদীতে বোনের বাড়িতে আত্মগোপন করেন।
পুলিশ জানায়, বিচ্ছিন্ন দেহাবশেষের সূত্র ধরে গত ১৭ মে দুপুর সাড়ে ১২টায় জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ এর ফোনের ভিত্তিতে মুগদা থানা পুলিশ মান্ডা এলাকার একটি ভবনের নিচের ময়লার স্তূপ থেকে মাথা ও বাম হাতবিহীন খণ্ডিত, অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সহায়তায় নিহত প্রবাসী মোকাররমের পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ হারুন উর রশীদ এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, "এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। প্রধান আসামি তাসলিমা তার বোনের বাড়ি থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে নিজের সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। ঘটনার পেছনে পরকীয়া সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেনের বিরোধ ছিল প্রধান কারণ।"
ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের চাচা বাদী হয়ে মুগদা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন (মামলা নং-১১, ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড)। গ্রেপ্তারকৃত প্রধান আসামি তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ডিসি আরও বলেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্তে এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো অজ্ঞাতনামা আসামি জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত আছে ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
