জাতীয় সংসদে আইন পাসের পর সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয় বিলুপ্ত। ফাইল ছবি
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত পৃথক সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণার পর সেখানে কর্মরত জুডিশিয়াল সার্ভিসের ১৫ জন কর্মকর্তা ও বিচারককে আইন ও বিচার বিভাগে ফেরত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাদের মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (ওএসডি) করা হয়। নির্বাচিত বিএনপি সরকার সংসদে অধ্যাদেশ বাতিলের বিল পাস করার পর বিচার বিভাগের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ পুনরায় আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ফিরে যাওয়ার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ফেরত নেওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ৯ জন জেলা ও দায়রা জজ, ২ জন অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ, ৩ জন যুগ্ম জেলা জজ এবং একজন জ্যেষ্ঠ সহকারী জেলা জজ পদমর্যাদার বিচারক রয়েছেন। তাদের আপাতত মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে অন্য স্থানে দায়িত্ব দেওয়া হবে।
বিলুপ্ত সচিবালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বদলি করা হয়েছে। সাবেক সিনিয়র সচিব (জেলা ও দায়রা জজ) শেখ আশফাকুর রহমানকে আইন ও বিচার বিভাগের সংযুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বিলুপ্ত সচিবালয়ের সাবেক দুই অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও দায়রা জজ) শারমিন নিগার ও মোহাম্মদ হালিম উল্ল্যাহ চৌধুরী এবং সাবেক সহকারী সচিব রুহুল আমীনকে মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার ধারাবাহিকতায় গত ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছিল। এরপর ১১ ডিসেম্বর সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই পৃথক সচিবালয়ের উদ্বোধন করেন, যার লক্ষ্য ছিল নিম্ন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলাজনিত বিষয়গুলো সুপ্রিম কোর্টের অধীনে আনা।
তবে সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ ও এর সংশোধনী অধ্যাদেশ রহিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় রহিতকরণ বিল, ২০২৬’ পাস হলে স্বতন্ত্র সচিবালয়টি আইনি ভিত্তি হারায়।
সংসদে বিলটি পাসের সময় বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র আপত্তি জানিয়ে এটিকে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ’ বলে আখ্যা দেন। এর জবাবে আইনমন্ত্রী সংসদে স্পষ্ট করে বলেন, "আদালত আইন নিয়ে তাদের মত দিতে পারলেও, আইন প্রণয়ন ও বাতিলের চূড়ান্ত ক্ষমতা একমাত্র জাতীয় সংসদেরই।"
এই রহিতকরণ আইন পাসের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয়ের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেল। ফলে বিচারক নিয়োগ, বদলি ও বিচার বিভাগের যাবতীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম আবারও আগের পুরনো কাঠামোয় অর্থাৎ আইন মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে চলে গেল, যা দেশের বিচারিক শাসনব্যবস্থায় একটি বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
