একনেক সভায় পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পের নকশা পর্যবেক্ষণ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মৃতপ্রায় নদীগুলো পুনর্জীবিত করতে এবং দীর্ঘস্থায়ী পানিসংকট নিরসনে পদ্মা নদীর ওপর নতুন একটি ব্যারাজ নির্মাণের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার (১৩ মে) ঢাকার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে আগামী সাত বছরে বাস্তবায়নযোগ্য এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ২৪টি জেলার প্রায় সাত কোটি মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানান, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই 'পদ্মা ব্যারাজ' নির্মাণ করা হবে। এটি মূলত সরকারের একটি ‘মাস্টারমাইন্ড’ প্রকল্প, যা নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল। আগামী ২০৩৩ সালের মধ্যে ব্যারাজ নির্মাণের পাশাপাশি তিনটি পানি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সাতটি স্যাটেলাইট শহর গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।
মৃতপ্রায় গড়াই-মধুমতী, হিসনা-মাথাভাঙ্গা, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী নদী ব্যবস্থার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। ভারতের ফারাক্কা ব্যারাজের প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে সৃষ্ট তীব্র খরা ও লবণাক্ততা মোকাবিলায় এই ব্যারাজ ২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণ করতে সক্ষম হবে। সংরক্ষিত এই পানি পাম্পের মাধ্যমে যশোর, খুলনা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী ও পাবনাসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ২৯ লাখ হেক্টর কৃষি জমিতে সেচ সুবিধা প্রদান করবে, যা বার্ষিক ধান উৎপাদন ২৪ লাখ টন বৃদ্ধি করবে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. আনিসুল হক বলেন, "যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ব্যারাজ নির্মাণ করে ঠিকঠাক কাজে লাগানো গেলে কৃষিখাত ও জীববৈচিত্র্যে বিশাল সুবিধা পাওয়া সম্ভব। তবে এর সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও নদী ব্যবস্থাপনার প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখা জরুরি।"
প্রকল্পের প্রথম ধাপে রাজবাড়ীর পাংশায় ৭৮টি স্পিলওয়ে ও ১৮টি আন্ডার স্লুইস সম্বলিত মূল অবকাঠামো নির্মাণের পাশাপাশি গড়াই ও হিসনা নদী পুনঃখননের কাজ শুরু হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে শুধু কৃষি নয়, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিত হবে। সরকার আশা করছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে বছরে প্রায় আট হাজার কোটি টাকার আর্থ-সামাজিক সুবিধা অর্জিত হবে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
