বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও অবকাঠামোগত চাহিদা পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে ওয়াশিংটন। বুধবার (১৩ মে) ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। পরিচ্ছন্ন ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি নিশ্চিতের মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নিয়ে আলোচনার লক্ষ্যে রাষ্ট্রদূত সম্প্রতি শেভরনের প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের লা রোজা এবং এক্সেলারেট এনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টিভেন কোবোসের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ৬০ শতাংশ সরবরাহ করে শেভরন, যা দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতের মূল চালিকাশক্তি। অন্যদিকে, এক্সেলারেট এনার্জির সঙ্গে আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য ছিল উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এলএনজি ও জ্বালানি অবকাঠামো সম্প্রসারণ।
রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, “আমরা বাংলাদেশের পরিবার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আরও পরিচ্ছন্ন ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে চাই। উদ্ভাবনী সমাধান ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারে সম্প্রতি ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত 'সিলেক্টইউএসএ ইনভেস্টমেন্ট সামিটে' ২৫ সদস্যের একটি বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ক্রিস্টেনসেন। এছাড়া মার্কিন সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সাম্প্রতিক ঢাকা সফরে বিনিয়োগের বাধা অপসারণ এবং বাজার প্রবেশাধিকার উন্নত করার বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। জ্বালানি নিরাপত্তার এই নবদিগন্ত ভবিষ্যতে বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।