হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে যাত্রী ধারণ ক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর কুর্মিটোলায় বেবিচক সদরদপ্তরে 'বাংলাদেশ এভিয়েশন ট্যুরিজম জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন' (বাটজা)-এর নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বেবিচক চেয়ারম্যান জানান, বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরের বার্ষিক যাত্রী ধারণ ক্ষমতা প্রায় ১৩ মিলিয়ন। থার্ড টার্মিনাল অপারেশনাল কার্যক্রমে এলে এই সক্ষমতা ১৯ মিলিয়নে উন্নীত হবে। তিনি বলেন, “টার্মিনালটি চালু হলে আমরা আরও বেশি সংখ্যক এয়ারলাইন্সকে সেবা দেওয়ার সুযোগ পাব, যা সরাসরি দেশের এভিয়েশন খাতের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।”
আধুনিকায়ন ও যাত্রীসেবা
যাত্রী ভোগান্তি কমাতে এবং সেবার মান বিশ্বমানে উন্নীত করতে থার্ড টার্মিনালে যুক্ত হচ্ছে বেশ কিছু অত্যাধুনিক প্রযুক্তি।
এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক বলেন, "থার্ড টার্মিনালে যাত্রীদের জন্য আধুনিক ইমিগ্রেশন এবং অটোমেটেড কাস্টমস সুবিধা থাকবে। এছাড়া প্রায় ১২০০ গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য থাকছে বিশাল মাল্টি লেভেল কার পার্কিং ব্যবস্থা, যা বিমানবন্দরের চিরাচরিত যানজট কমিয়ে আনবে।"
টার্মিনালের ভেতরে মোবাইল নেটওয়ার্ক নিয়ে উদ্বেগের বিষয়ে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, পর্যাপ্ত রিপিটার বসানোর মাধ্যমে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক কাভারেজ নিশ্চিত করা হবে।
চেয়ারম্যান জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে থার্ড টার্মিনালের কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সংযোগ বাড়াতে বগুড়া, ঈশ্বরদী, ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাটসহ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ৮টি বিমানবন্দর পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, থার্ড টার্মিনাল চালু হলে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ এভিয়েশন হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। আধুনিক অবকাঠামো ও ক্রমবর্ধমান যাত্রী সক্ষমতা কেবল পর্যটন নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন গতির সঞ্চার করবে।