দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামে এবং বাকি ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে উপসর্গ নিয়ে। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে, এ নিয়ে প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪২৪ জনে। মৃত শিশুদের মধ্যে সিলেটে ২ জন এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনায় ১ জন করে প্রাণ হারিয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে নতুন করে ৮৭ জন নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ২৪ জনে। একই সময়ে ১ হাজার ১০৫ জন শিশুর শরীরে হামের সন্দেহভাজন উপসর্গ দেখা দিয়েছে, যা মিলিয়ে মোট সন্দেহভাজন সংক্রমণের সংখ্যা এখন ৫১ হাজার ৫৬৭।
সংক্রমণের ভৌগোলিক বিস্তার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাজধানীর পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ৬ জনের মধ্যে ৩ জনই ঢাকা বিভাগের। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনবহুল এলাকায় দ্রুত সংক্রমণ ছড়ানো এবং সময়মতো টিকাদান কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকা শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, "আমরা সংক্রমণের গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। বিশেষ করে যেসব এলাকায় মৃত্যুহার বেশি, সেখানে টিকাদান জোরদার করা হয়েছে। তবে অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ, শিশুর সামান্য উপসর্গ দেখা দিলেই দেরি না করে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসুন।"
বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে একটি বড় অংশ অপুষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন যে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এবং টিকার বিশেষ কর্মসূচি সফল না হলে সামনের দিনগুলোতে সংক্রমণ ও মৃত্যু—উভয়ই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সরকার বর্তমানে হটস্পটগুলোতে জরুরি ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইনের পরিকল্পনা করছে।