দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ ও প্রাণহানি। গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা) হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন হাম আক্রান্ত এবং ৬ জন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া প্রাদুর্ভাবে মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫২ জনে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ৪৩৫ জন শিশু হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ৯৪৬ জনের মধ্যে উপসর্গ দেখা দিয়েছে। মৃতদের মধ্যে বরিশালে হাম শনাক্ত হওয়া তিন শিশু এবং ঢাকা, খুলনা ও সিলেটে উপসর্গসহ ছয় শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
রাজধানীর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের চিত্র ছিল অত্যন্ত শোকাবহ। ১০ মাসের সন্তান মাহাজবিকে আইসিইউতে তিন দিন রাখার পর হারানো মা শিউলি আক্তারের হাহাকারে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের বাতাস। নিথর সন্তানের পাশে বসে বিলাপ করতে থাকা শিউলি বলেন, "তিন দিন ধরে কত লড়াই করল ছেলেটা, শেষ পর্যন্ত আমায় একা ফেলে চলেই গেল।"
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ৪৭ হাজার ৬৫৬ শিশুর মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এই সময়ে ৩৩ হাজার ৬৩১ জন শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং শনাক্ত হয়েছে ৬ হাজার ৯৭৯ জনের শরীরে। যদিও ২৯ হাজার ৭৪৬ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে, তবুও সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী হার স্বাস্থ্যখাতে বড় চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতা বাড়ানো এবং দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা না গেলে মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হতে পারে। বর্তমানে আক্রান্ত শিশুদের সঠিক পরিচর্যা ও পুষ্টির বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করার ওপর জোর দিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।