আগামী পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টানা সাত দিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার এক বিশেষ বৈঠকে ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উৎসবকালীন যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতেই দীর্ঘ এই ছুটির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ২৫ মে (সোমবার) থেকে ৩১ মে (রবিবার) পর্যন্ত দেশের সকল সরকারি, আধাসরকারী ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। তবে এই বর্ধিত ছুটি সমন্বয় করতে আগামী ২৩ মে (শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও সকল সরকারি অফিস খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, "জনসাধারণের ঈদযাত্রা যেন ভোগান্তিমুক্ত হয় এবং পরিবারের সাথে পর্যাপ্ত সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়, সেজন্যই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই নির্বাহী আদেশের অনুমোদন দিয়েছেন।" তিনি আরও জানান, জরুরি সেবাসমূহ (হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ) এই ছুটির আওতামুক্ত থাকবে।
সচিবালয় সূত্র জানায়, প্রতিবছর ঈদের সময় সড়কে ও রেলপথে অতিরিক্ত চাপের কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এবার ছুটির ব্যাপ্তি দীর্ঘ হওয়ায় ঘরমুখো মানুষের ভিড় একযোগে না হয়ে পর্যায়ক্রমে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরিবহন ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে।
এদিকে, সরকারি ছুটির সাথে মিল রেখে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা সাজাচ্ছে। আগামী ২৩ মে শনিবার অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও দীর্ঘ মেয়াদী ছুটির ঘোষণায় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে আনন্দের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী জুনের প্রথম সপ্তাহে সরকারি দপ্তরগুলোতে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।