মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মার্কিন প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সই হওয়া পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি (এআরটি) নিয়ে দেশজুড়ে চলা তীব্র সমালোচনার জবাবে ভিন্ন এক প্রেক্ষাপট হাজির করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। চুক্তিতে বাংলাদেশের ওপর শর্তের পাহাড় চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ সুবিধাজনক অবস্থানেই রয়েছে। তিনি জানান, ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তিতে ‘শ্যাল’ (পালনযোগ্য শর্ত) শব্দের ব্যবহার বাংলাদেশের চেয়েও অনেক বেশি।
মঙ্গলবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডান লিঞ্চের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এসময়ষ তিনি বলেন, “বাংলাদেশ ১৩১টি শর্তে ‘শ্যাল’ বলেছে। কিন্তু ইন্দোনেশিয়াকে একই ধরনের চুক্তিতে ২৩১টি ক্ষেত্রে ‘শ্যাল’ বলতে হয়েছে। ফলে ঢালাও সমালোচনা না করে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তির তুলনা করলেই প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হবে।”
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এই চুক্তির রূপরেখা তৈরি হয়েছিল, যেখানে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান তৎকালীন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সম্প্রতি চুক্তির ধারাগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মাত্র ৬টি শর্তের বিপরীতে বাংলাদেশের জন্য ১৩১টি শর্ত রাখা হয়েছে। বিষয়টিকে অনেকে ‘একপাক্ষিক’ বলে অভিহিত করলেও খলিলুর রহমান একে একটি দরকষাকষির প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র সব দেশকে রেসিপ্রোকাল ট্যারিফের প্রস্তাব দিয়েছে। কেউ ২০ পেয়েছে, বাংলাদেশ পেয়েছে ১৯ শতাংশ। এই চুক্তিগুলো পাবলিক ডোমেইনেই আছে; পলিসি, পারচেজ কমিটমেন্ট—সব মিলিয়ে তুলনা করলেই বোঝা যাবে আমরা কী রেট পেয়েছি।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এদিন কেবল বাণিজ্য নয়, বরং কূটনৈতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়েও সরব ছিলেন। বিকেলে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে যাওয়ার আগে তিনি তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সরকারের অনড় অবস্থানের কথা জানান। ভারতের সঙ্গে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে ঝুলে থাকা পানি বণ্টন চুক্তির জন্য বাংলাদেশ আর অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করবে না বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দেন তিনি।
খলিলুর রহমান বলেন, “তিস্তা পাড়ের মানুষের মরণ-বাঁচন সমস্যা সুরাহা করা আমাদের সরকারের অঙ্গীকার। ভারত কী ভাবছে সে জন্য বসে থাকা চলবে না, আমাদের কাজ আমাদের করতে হবে। চীন সফরে তিস্তা প্রকল্প নিয়ে অবশ্যই আলোচনা হবে।” পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের বিজেপি নেতাদের বাংলাদেশবিরোধী বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, যেকোনো ‘পুশ-ইন’ বা উসকানিমূলক বক্তব্যের বিপরীতে বাংলাদেশ ইতিমধ্যে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।
বাণিজ্যিক শর্তের বেড়াজাল আর আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির মারপ্যাঁচে বাংলাদেশ এখন ‘কান্ট্রি ফার্স্ট’ বা দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে—পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই বার্তাই ফুটে উঠেছে। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে তাঁর আহ্বান, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে যেন এই চুক্তির মূল্যায়ন করা হয়।
বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য পাল্টা শুল্ক
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
